ঢাকা: প্রায় ১১ মাস কারাবন্দি থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মনির খান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৮ বছর। ৫০-ও ছুঁতে পারেননি তিনি। তাঁর আগেই চলে যেতে হয়েছে।
তারেক জিয়ার পুলিশ তাঁকে আইসিইউতে অচেতন অবস্থায়ও হাতকড়া পরিয়ে রেখেছিল। স্ট্রোক করে একটা মানুষ মৃত্যু শয্যায়, তার কোন চেতনা নেই কিন্তু তারেকের পুলিশ আইসিইউর ভেতরে মনির খানকে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে।
এবার শুধু ভাবুন এরা কি পরিমাণ বর্বর!
এরা সেই বর্বর বাহিনী, যারা ২০০৪ সালে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল, কোন হাসপাতাল যেন গ্রেনেড হামলায় নৃশংসভাবে আহতদের কোনরকম চিকিৎসা না করে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়।
পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এবং পাশাপাশি তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সব ভুয়া মামলায় কত যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারি হয়েছে আর মারা গেছেন তার হিসাব নেই।
এক যাত্রাবাড়ি তো আছেই, ব্যস! দাও মামলা।
জানা যায়, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি মিথ্যা হত্যা মামলায় মনির খান ও তাঁর স্ত্রী, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সালমা জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁকে আরও কয়েকটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি টানা প্রায় ১১ মাস কারাগারে ছিলেন।
সালমা জাহান তিনটি মামলায় প্রায় ছয় মাস কারাভোগ করেছেন। কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। তবে মনির খান কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও অন্যান্য বিচারাধীন মামলার কারণে কারামুক্ত হতে পারেননি। সেখানে তাঁকে তীব্র অত্যাচারের শিকার হতে হয়।
