পটুয়াখালী: আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিলেন এমপির ভাই! এখনো কি বিশ্ব বাটপার ইউনুসের যুগ চলছে?
সহিংসতা যদি না একতরফ থেকে বন্ধ না হয়, তাহলে তো দুই তরফেই সহিংসতা লেগে থাকবে! ক্রিয়া করলে প্রতিক্রিয়া আসবে না এটা তো আশা করা যায় না।
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলগুজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল বি এন পি জামাত সন্ত্রাসীরা! এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে দেশবাসী।
গুঁড়িয়ে দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়িতে লুটপাট করে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বাড়িটিতে আগুনও লাগানো হয়েছে। এই অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ১২টার পর থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কাঠালতলী বাজারের পাশে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং বাড়িতে কোনও মানুষ ছিল না।
এমন অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে আগুনে।
বাড়ির মালিক মিজানুর রহমান লাভলু কাজী উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তাঁর জায়গায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
জানা গেছে, তাঁর মা বাড়িতে একা বাস করতেন। শুক্রবার বিকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। অসুস্থতার জন্য মা একটি হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। খালি বাসায় সুযোগে রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে একতলা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারী শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, তাঁর বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় পরিবার নিয়ে তারা ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
এই সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে পলাশ হাওলাদার এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন।
ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, স্বর্ণালংকার সব লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। এবং ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
মেহেরুন্নেছা জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে রওনা হয়ে শনিবার ভোরে বাড়িতে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
