ঢাকা: বিএনপি যে ক্ষমতায় এসেছে তাতে হিন্দুদের অবদান কী অস্বীকার করতে পারবে?
বিএনপির জয়ে হিন্দুদের একটা বড় প্রভাব রয়েছে। একদা আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন বাংলাদেশের হিন্দুরা।
তবে আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনে একমাত্র জামাতকে ঠেকাতে বিএনপির ওপর ভরসা রেখেছিলেন হিন্দু ভোটাররা।
আওয়ামী লীগেরও অনেক ভোট গেছে বিএনপিতে। তবে সংখ্যালঘু হিন্দুদের যে আশ্বাস দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিলো, তা কী পূর্ণ করছে!? এ গাদ্দারি ছাড়া আর কী?
কোনো দোষ না করেও চিন্ময় প্রভুকে দিনের পর দিন আটকে রাখা হয়েছে কারাগারে।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর (চিন্ময় প্রভু) জামিন আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট। বিএনপি-প্রেমী হিন্দু নেতারা আজ আর কী বলবেন? কী বলে সান্ত্বনা দেবেন স্বজাতির মানুষদের?
এখনও কি আপনার এই সত্যি অনুধাবনের সময় আসেনি যে বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল আড়াই কোটি হিন্দুর স্বার্থে একটি পদক্ষেপও নেবে না।
একদম বাস্তব সত্য হচ্ছে এই দেশে হিন্দুদের কোনো নিরাপত্তা নেই।
ইউনূস আমলে তুমুল অত্যাচার হয়েছে হিন্দুদের ওপর। এখনো তাই হয়ে চলেছে।
বিএনপি সরকারের আমলেও আড়াই মাসে প্রায় অর্ধশত হিন্দু কেবল খুন হয়েছেন। ধর্ষণ ও অন্যান্য নিপীড়নের কথা বাদই দিলাম।
সামনে বিএনপি সরকার পুজোর ছুটি হয়তো বাড়াবে, কয়েকটা মডেল মন্দির করে দেবে। বোকা হিন্দুরা কপালে চুমু খাওয়াটাকেই মনে রাখবেন, আনন্দে লাফাবেন। কিন্তু পিঠের উপর বেত্রাঘাত মনে রাখার মতো বোধশক্তি তাঁদের কোনোদিন নেই, এত ঘটনার পরেও হয়নি।
লেখক তসলিমা নাসরিন বলেছেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দেওয়া হলো না। অথচ আইনজীবী আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। অর্থাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। হত্যার সরাসরি নির্দেশ দেওয়া, পরিকল্পনা করা, বা উস্কানি দেওয়ার কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণও রাষ্ট্র দেখাতে পারেনি”।
আলিফ হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন প্রশ্নে রোববার হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে যুক্তিতর্ক শেষে তাঁকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।
তাঁর জামিন বিষয়ে জারিকৃত রুল খারিজ করে রোববার (১০ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পাশাপাশি অপর চার মামলায় তাঁর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
এখন কী বলবেন?
কেনো চিন্ময় প্রভুর জামিন হলো না? তাঁর একমাত্র কারণ হিন্দু।
একজন হিন্দুকে জ্যান্ত পিটিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা মামলার আসামিরা জামিন পায় কিন্তু চিন্ময় প্রভু জামিন পায় না কেনো? তাহলে এদেশে হিন্দু হত্যা কি কোনো অপরাধ হিসাবে গণ্য নয়?
শুনানিতে চিন্ময় দাসের আইনজীবী যুক্তি দেখান যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে বন্দি এবং তিনি বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। এই দিকটা বিবেচনা করে মানবিক কারণে তাঁর জামিনের আবেদনকে মান্যতা দেয়া উচিৎ ছিলো না আদালতের?
যদিও আদালত সেই যুক্তি গ্রাহ্য করেনি। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর কারাবাসের মেয়াদ দিনে দিনে বাড়ছে।
