ঢাকা: চিন্ময় প্রভু জেল খাটছেন বিনা দোষে, এখন হরিদাস চন্দ্রও জেল খাটবেন বিনা দোষে।

তবে বিনা দোষে জেল খাটা এটা তো কেউ বলবে না, সরকার বলবে না, আইন বলবে না। তাই চিন্ময় প্রভুর ওপর আছে খুনের মামলা, হরিদাসের ওপর দেয়া হয়েছে মানি লন্ডারিং!

হরিদাস চন্দ্র তরণী রাম মন্দির তৈরি করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছেন এটা কেউ বলতেই পারবে না। তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে!

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিষয়টাও দেখুন না। হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে কেউ বলতেই পারবে না!

প্রথম গ্রেফতার দেখালো জাতীয় পতাকা অবমাননা, তারপর আইনজীবী খুনের মামলা।

গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উঁচু একটি রামমূর্তি তৈরি করা নিয়ে সম্প্রতি আলোচনায় ছিলেন রাধাগোবিন্দ কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস।

তবে হঠাৎ করে রবিবার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, এদিন ঢাকার পলাশবাড়ী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের দায়ের করা মামলায় রবিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাঁকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সিআইডির দাবি, বৈধ আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে হরিদাসের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে।

এই অর্থের অধিকাংশই পরবর্তীতে উত্তোলন করা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁর হিসাবে অর্থ জমা দিয়েছেন, যা তাঁর পেশা ও ঘোষিত আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে।

হরিদাসের গ্রেপ্তার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস। মুসলিম মৌলবাদী আর হিংস্র জিহাদিদের হুমকির পর মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত হয়ে যায়। এখন হরিদাসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস দীর্ঘদিন কারাবন্দি। হিন্দুদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ন্যায্য অধিকারের পক্ষে দাঁড়ালে একে একে সবাইকে জেলে যেতে হবে—এটাই কি নতুন বাংলাদেশের গণতন্ত্র”?

তসলিমা প্রশ্ন করেছেন, ” গণতন্ত্রের নামে কি এখন সাম্প্রদায়িক শাসন চলবে? বাংলাদেশ কি শুধু মুসলমানদের দেশ, নাকি সমান অধিকারসম্পন্ন সব নাগরিকের দেশ?
অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে। অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে”।

“হিন্দুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। মৌলবাদীদের তুষ্টি নয়—রাষ্ট্রকে সংবিধান, সমতা এবং ন্যায়বিচারের নীতি মানতে হবে”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *