ঢাকা: বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু কিভাবে নিষিদ্ধ হয়? বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় কলেজ শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে! আজ পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে জাতির পিতার নাম নেয়াও অপরাধ।

তাহলে তো বাংলাদেশকেই নিষিদ্ধ করতে হয়, বাংলাদেশের পতাকা নিষিদ্ধ, বাংলাদেশ জাতীয় সঙ্গীত নিষিদ্ধ, বাংলাদেশের সংবিধান নিষিদ্ধ কারণ সংবিধানের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা আছে।

বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর প্রতীক খেতাব সব নিষিদ্ধ।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী মহাবিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) কলেজের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাধারণ নিয়মটুকু তাঁর ক্ষেত্রে পালন করা হয়নি। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি! কোনো নিয়ম নেই- বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়েছ তুমি বরখাস্ত।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সোহেলী আক্তার নন্দনগাছী মহাবিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক।

শনিবার (১৫ আগস্ট) শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সোহেলী আক্তার তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেছিলেন।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’ লেখা এই ফটোকার্ডে শেখ মুজিবের ছবিও ছিল। ফটোকার্ডের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’। এরপরেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাষক সোহেলী আক্তার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের প্রধানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এটা আমরা অবগত হওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কেউ এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দিতে পারে না, সে জন্য কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই কীভাবে বরখাস্ত করা হলো, জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি।

সোহেলী আক্তার বলেন, ‘আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এটা আমি জানি না। সাংবাদিকেরা আমাকে ফোন করেছেন, তখন জানতে পেরেছি। আমার কী দোষ, সেটাও তো জানি না। আমার কিছু বলার নেই।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *