ঢাকা: সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা সম্প্রতি জানিয়েছেন।

এটি খুব ভালো কথা। তাহলে যে সাংবাদিকদের ভুয়া মামলা দিয়ে কারাগারের প্রকোষ্ঠে রেখে দেয়া হয়েছে তাঁদের নিয়ে নিশ্চয়ই ভাববে তারেক রহমানের সরকার!? তাঁদের মুক্তির বিষয়ে ভাবা উচিৎ।

বাংলাদেশে কারাবন্দী চার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মুক্তি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।

চিঠিতে কারাবন্দী সাংবাদিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

গত রোববার ই–মেইলে পাঠানো এই চিঠিতে যে চার সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ফারজানা রুপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু ও শ্যামল দত্ত।

জুলাই জঙ্গী অভ্যুত্থানের পর ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে তাঁরা গ্রেপ্তার হন, এবং এখনো কারাগারে রয়েছেন। ইউনূসের আমলে জঙ্গীদের জেল থেকে বের করা হয়েছে, কিন্তু সাংবাদিকদের জেলবন্দী করা হয়েছে যাতে তাঁরা কথা না বলতে পারেন!

এমনকি প্রশ্ন করার জন্য অনেক সাংবাদিকের চাকরি খেয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে আছেন ফারুকী সাহেব। অতি ভদ্র ব্যক্তিটিকে প্রশ্ন করা যায় না!

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, এই চার সাংবাদিক খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করে ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে কারাগারে রাখা হয়েছে।

তবে সিপিজের নথিপত্র, স্বজনদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা বলছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো অভিযোগপত্রও (চার্জশিট) দেওয়া হয়নি।

এসব মামলার ধরন দেখে মনে হয়, মূলত সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই তাঁদের এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে।

চিঠিতে কারাবন্দী সাংবাদিকদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সাংবাদিক ফারজানা রুপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই সপ্তাহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সেলে (কনডেম সেল) রাখা হয়েছিল।

শ্যামল দত্ত গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মাথায় স্ট্রোক করেন। তিনি আগে থেকেই হৃদরোগ ও গুরুতর ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’য় (ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা) ভুগছেন।

অন্যদিকে মোজাম্মেল হক বাবু প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০২৩ সালের শেষের দিকে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তবে তিনি কারাগারে প্রয়োজনীয় ফলোআপ চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

অর্থাৎ সবাই অসুস্থ। তবুও তাঁদের প্রতি কোনো সুবিচার নেই।

সিপিজে বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার কথা বলা আছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *