ঢাকা: কারিনা কায়সার, ফুটবলার কায়সার হামিদের মেয়ে। জন্ম বাংলাদেশে, মৃত্যু ভারতে! হ্যাঁ ভারতে যে কারো মৃত্যু হতেই পারে। কিন্তু কারিনাদের মতো ভারত বিদ্বেষীদের মৃত্যুটা ভারতে হলে মানায় না।

মৃত্যু নিয়ে উল্লাস কখনোই ভালো কথা নয়। কিন্তু এই জুলাই যোদ্ধারা যেভাবে দিল্লি না ঢাকা বলে বলে মুখের ফেনা তুলে ফেলেছে, আর দেশকে উস্কানি দিয়েছে, গণভবন থেকে লুটপাট চালিয়েছে, একজন মায়ের বয়সী নারী শেখ হাসিনা তাঁর অন্তর্বাস নিয়ে পৈশাচিক উল্লাস করেছে- তাতে ঘৃণা ছাড়া আর কিছু জন্মায় না।

যেই বীর পুরুষ, বীর মহিলারা দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিয়েছে, তাদের নিজেদের নয়তো পরিবারের চিকিৎসাই ভারতে হচ্ছে! ভারত ছাড়া গতি নেই। আমার ভারতের ঘাড় মটকাতে এরা আগেভাগে ছুটে যায়। মটকাতে তো পারে না, উল্টো হাত ভেঙে পঙ্গু হয়ে বসে থাকে। তবুও লজ্জা হয় না জুলাই জঙ্গীদের।

জানা গেছে, সারজিস আলমের বাবাও নাকি ভারতের চিকিৎসা নিয়েছে।

প্রাণ বাঁচানোর প্রাণপণ চেষ্টায় চিকিৎসার জন্য ভারতে গমন!

কারিনা কায়সার আজ বেঁচে নেই, তাঁর সকল পাপ ধুয়ে গেছে হয়তো মৃত্যুর সাথে সাথে। কিন্তু কর্ম থেকে যায়। হয়তো মানুষ মানবিকতার খাতিরে আর কিছু বলবে না। কিন্তু মনে মনে করা বলবেই তাঁর কর্ম নিয়ে।

আমরা জানিনা কারিনাকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক জ্ঞান ছিল কিনা। যদি জ্ঞান থাকে তবে নিশ্চয় বুঝেছে, মরণকালে তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টায় এগিয়ে এসেছিল তারই শত্রুদেশ ভারত।
তার বাপ-দাদার দেশ পাকিস্তান বা তার নিজের দেশ বাংলাদেশের খরিদ্দার আমেরিকা এগিয়ে আসে নাই।

তাঁর বিদেহী আত্মা চুরির কলঙ্ক বয়ে বেড়াবে অনন্তকাল। তার বেঁচে থাকা বাবা, ভাই, মা কী শুনবেন? এইযে বাবাও উল্লাস করেছেন সেদিন!

শুক্রবার রাতে চেন্নাইয়ের ভেলোরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বিগত কয়েকদিন ধরেই লিভারের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন কারিনা।

পারিবারিক সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন কারিনা। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ (ইনফেকশন) ধরা পড়ে।

চিকিৎসকেরা জানান, হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’-র যৌথ সংক্রমণে তাঁর লিভারের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় প্রথমে তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

পরবর্তীকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে কারিনাকে চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভেলোরের বিখ্যাত খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

চিকিৎসকেরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং সমান্তরালভাবে লিভার প্রতিস্থাপনের (লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার রাতে চিরবিদায় নেন মাত্র ৩১ বছরের তরুণী শিল্পী।

শনিবার গভীর রাতে কারিনার বাবা কায়সার হামিদ সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে মেয়ের সঙ্গে একটি হাসির ছবি পোস্ট করে আবেগঘন বার্তায় তিনি লেখেন, “অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।”

“আমার মেয়ের কোনও ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে, দয়া করে ওকে ক্ষমা করে দেবেন। এই কঠিন সময়ে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন, প্রার্থনা করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *