ঢাকা: এক জঙ্গী হাদি সারা বাংলাদেশ জ্বালিয়ে গেছে। অবশ্য তাঁকে করা হয়েছিলো বলির পাঁঠা। যাতে দেশকে অশান্ত করে তোলা যায়। এবং হিন্দুদের নির্যাতনের একটা রাস্তা আরো খুলে যায়।
হাদির মৃত্যুর রাতেই মব করে পিটিয়ে খুন করে দীপু দাসের দেহে আগুন লাগানো হয়। ঝুলিয়ে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানাবে এই নৃশংসতা।
এবং আশ্চর্যজনকভাবে সেই ঘটনায় ধৃত অন্যতম আসামি মো. মাসুম বাংলাদেশের হাইকোর্ট এক বছরের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। এই কি বিচার ব্যবস্থা?
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক ছিলেন দীপু চন্দ্র দাস। একমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বর্বর ঘটনার মামলায় গ্রেফতারকৃত অন্যতম আসামি মো. মাসুম উচ্চ আদালত থেকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে যাবার ঘটনা তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
অথচ জুলাই আন্দোলনের পর দায়েরকৃত অসংখ্য মামলায় বয়স্ক, অসুস্থ, আহত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জামিন না পেয়ে কারাগারে রয়েছেন। মিথ্যা মামলায় জেল খাটছেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা। মারা যাচ্ছেন। তাদের জন্য আইন নেই। কখনো শ্যোন এরেস্ট দেখানো হচ্ছে।
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ভালুকার ডুবুলিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিট ফ্যাক্টরিতে কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে জোর করে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগকারী তথা হিন্দু বিদ্বেষীরা দাবি করেন, তিনি ইসলাম ও নবী সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। একদল লোক তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করে, পরে বিবস্ত্র মরদেহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তদন্তে ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ না পাওয়া যায়নি। হত্যা এবং মরদেহ নির্যাতনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিযোগে মোট ২২ থেকে ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।অনেকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
গত ৬ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ মো. মাসুমকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের শর্ত হিসেবে দুই হাজার টাকার মুচলেকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মব সন্ত্রাস নিয়ে ইউনুস আমল সম্পর্কে মুখ খোলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. জাহেদ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ভীষণভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এমনই রিপোর্ট উঠে এসেছে বাংলাদেশের মিডিয়ায়।
জাহেদ বলেন, অতীতে কিছু সময়ে এসব (মব সন্ত্রাস) কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সমাজে একটি ভুল প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মানুষ মনে করছে, চাইলেই কাউকে শাস্তি দেওয়া যায়, এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
কেউ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়।
অথচ তাঁর কথার সাথে কাজের মিল নেই। দীপু দাস হত্যাকাণ্ড মামলায় বাংলাদেশে অন্যতম অভিযুক্তের এইভাবে এক বছরের জামিনের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার সহ সংশ্লিষ্ট মহল।
