রাজশাহী: ভারতের নাগরিক নন, অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছেন- এইসকল নাগরিককে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। মূলত ভারত তো লঙ্গরখানা নয় যে শরণার্থীদের শুধু আশ্রয় দেবে।
আর এই বিষয়টাকে কটূ রাজনীতি বানাচ্ছে একদল। সীমান্তে অশিক্ষিত কিছু বাংলাদেশীরা গিয়ে ভিড় করছে লাঠিসোঁটা নিয়ে।
বিজিবির সাথে সাধারণ জনগণ দৌড়াদৌড়ি করছে, কেউবা ভারতের সীমান্তে ঢুকে পড়ছে, চাষ করা ভারতের সবজি নষ্ট করে, চুরি করে নিয়ে আসছে, আবার ভিডিও বানাচ্ছে! একটা তামাশা লাগিয়ে রেখেছে এরা সীমান্তে।
এরই মধ্যে একজন বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় বিএসএফ। সীমান্তে তো বৃদ্ধের করুণ অবস্থা। বিজিবি তো কোনোভাবেই তাঁকে দেশে ঢুকতে দেবে না। জল কাঁদায় বৃদ্ধ ঘোরাঘুরি করছেন!
সীমান্ত এলাকায় যাদের যাতায়াত তারা জানে ওইসব এলাকার অনেক মানুষই দালালের মাধ্যমে ভারতে গেছে।
ভারত থেকে যাদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, তাঁরা নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন তাঁরা বিভিন্ন সময় ভারতে গিয়েছেন অবৈধভাবে, দালালকে পয়সা দিয়ে।
কেউ কেউ দিল্লী মুম্বাইও কাজ করে এসেছেন।
অনেকে জেলেও আছেন। সরকারের উচিত আলোচনা করে এই ধরনের মানুষদের গ্রহণ করা।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় আটকে থাকা সেই বৃদ্ধ বাংলাদেশেরই। অথচ ইচ্ছে করে এমন নাটক করা হলো তাঁকে নিয়ে।
অবশেষে তাঁর স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকাল ৫টার দিকে বকশীগঞ্জ থানা থেকে তাঁকে স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে পুলিশ।
বিজিবি ও বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, কামালপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার বৃদ্ধের পরিচয় মিলেছে। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। নাম তাঁর ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মন। বয়স ৬৮ বছর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। তারা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা শূন্যরেখায় থাকার পর পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে বিজিবি। এরপর তাঁকে বকশীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে পরিবাবের কাছে তাকে হস্তান্তর করেন।
ষষ্ঠী চন্দ্র বর্মনের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চন্দলাই গ্রামে। পরিবারের দাবি করেছে, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রায় দুই মাস আগে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান হঠাৎ।
কীভাবে কীভাবে যেন ভারতে চলে গিয়েছেন তিনি।
বড় ভাই ভবানী বর্মন বলেন, ‘আমার ছোট ভাই দুই মাস আগে হঠাৎ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। আমরা গরিব মানুষ। টাকা-পয়সা নেই, তাই পুলিশের কাছে যাইনি। বুধবার রাতে আমার ছেলে একটা ভিডিও দেখে বলে, কাকাকে জামালপুর সীমান্তে দেখা গেছে। পরে আমরা বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করি। এখানে এসে ভাইকে ফিরে পেলাম। আমাকে দেখে কাঁদতে শুরু করে ভাই। বিএসএফ তাকে কীভাবে তাদের দেশে পেয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার কথাবার্তা এলোমেলো। পরে আমরা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইবো। আপাতত তাকে নিয়ে আমরা বাড়ি যাচ্ছি।’
