কিশোরগঞ্জ: পাকিস্তান প্রীতি এবং ভারত বিদ্বেষ, এমন পররাষ্ট্র নীতির কারণে বাংলাদেশ বিপদে পড়তে যাচ্ছে। এটা কী খুব ভুল কথা বলা হয়ে গেলো? আজ্ঞে না। বাংলাদেশের পাকিস্তানপ্রীতি খুব ভালো ফল বয়ে আনবে না।
এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। জঙ্গী ইউনূসের গোলামি চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
দেশে এই গোলামি চুক্তি নিয়ে কোনো কথা নেই। উপর মহল চুপ।
ইউনুসের গোলামি চুক্তি আজ যদি একই ধরনের আকারে অতীতে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হতো, তাহলে দেশের সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মিডিয়া পরিবেশ সম্ভবত অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠতো।
টকশো কাঁপতো, বিবৃতি আসতো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভরে যেত, দেশ বিক্রি হয়ে গেছে, গেলো গেলো চারদিকে। অথচ এখন? এখন যে সত্যিই দেশ গোলাম হয়ে গেলো, সে নিয়ে বকধার্মিকরা চুপ।
চুক্তির চরিত্র বদলায়নি, বদলেছে শুধু ক্ষমতার চেয়ার।
বাংলাদেশে এখন এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে দেশপ্রেমও ক্ষমতার রং দেখে জেগে ওঠে। একই চুক্তি এক সরকারের হাতে “রাষ্ট্রদ্রোহ”, আর অন্য সরকারের হাতে “কূটনৈতিক সাফল্য” হয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. ফজলুর রহমান বলেছেন,পাকিস্তানের সঙ্গে অতিরিক্ত সম্পর্ক আমাদের জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে।
শুক্রবার (১৫ মে) ‘মানচিত্র’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন তিনি।
অ্যাড. ফজলুর রহমান বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের পরে রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের যে চুক্তি, এটার যে ফলাফল বাঙালির জীবনে এনেছিল, বাংলার জীবনে এনেছিল, ইউনূস সাহেবের সঙ্গে আমেরিকার চুক্তি একই ফলাফল আনবে, যদি এই চুক্তি সম্পর্কে আমরা সচেতন না হই এবং প্রতিকার না করি।
এটা রবার্ট ক্লাইভের সঙ্গে মীর জাফরের চুক্তি। যদি দেশ স্বাধীন রাখতে হয়, এটাকে বাতিল করতে হবে।
তিনি বলেন, আমার দল এখনো কেন ইউনূসের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছে, এটা বলতে পারেন।
সেই কথাটা আমি সেভাবে বলতে চাই না।
আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে এই কথাটা বলে গেলাম, পাকিস্তানের সঙ্গে অতিরিক্ত সম্পর্ক আমাদেরকে পেছনে টেনে নিয়ে যাবে।
আমাদের জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার একটা কারণ হলো একটা সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে জীবিত করে রাখা, বাংলাদেশের কিছু অবুঝ ভোটারদের, অবুঝ মানুষের একটা সমর্থন পাওয়া।
