ঢাকা: প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে কাজী নজরুল ইসলামের দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে।
আর সেখানেই দাফন করা হয় ভারতবিদ্বেষী, কট্টরপন্থী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে।
এই নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক চলে। তবে বিতর্ক চললেই কি এই দেশে আর না চললেই কি!
এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলো নজরুলের পরিবারও। অন্তর্বর্তী সরকারকে নিশানা করে তারা।
ভারতের পশ্চিম বর্ধমানের চুরুলিয়ায় কবি নজরুলের জন্মভূমিতে বসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, এর পর জাতীয় কবির সমাধির উপর আক্রমণ হবে না তো!
নজরুলের পরিবারের সদস্য সোনালি কাজী এবং স্বরূপ কাজীর বক্তব্য, যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অনৈতিক। নিয়ম মতো ওই স্থানে বিশেষ কয়েক জনকে সমাধিস্থ করা হয়।
এত জায়গা থাকতে নজরুলের সমাধির পাশে হাদিকে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনীতি রয়েছে। সোনালি বলেন, “আমাদের প্রাণের কবি বাংলাদেশে শেষ জীবন কাটিয়েছেন। এত দিন বাংলাদেশে আমরাও (পরিবারের অন্যেরা) ভাল ছিলাম। কিন্তু এখন যা হচ্ছে…।”
তিনি বলেন, “ওই কবরস্থানে সকলকে সমাধিস্থ করা হয় না। কিন্তু ছায়ানট ভাঙচুর করা, রবীন্দনাথের বই পুড়িয়ে দেওয়া বাংলাদেশিদের উগ্রবাদীরা হাদিকে সমাধিস্থ করলেন কবির সমাধির পাশে! এটা হল কেন?নজরুল যেখানে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে গিয়েছেন, জাতের নামে বজ্জাতির কথা বলেছেন, তখন তাঁর সমাধির পাশে এমন এক জনকে সমাধিস্থ করা হল সরকারেরই নির্দেশে!”
এবার গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ বলেছেন, কবি নজরুলের পাশে হাদিকে সমাহিত করা ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ একটি সিদ্ধান্ত।
জঙ্গী ইউনূসের অপকীর্তি তো কম নয়। তার মধ্যেই তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরের জন্য গণভবন জায়গা বেছে নেওয়া ঠিক হয়নি। এটি ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ একটি সিদ্ধান্ত ছিল।
ভালো কোনো স্থানে স্মৃতি হিসেবে জুলাই জাদুঘর স্থাপন করা যেত। কিন্তু সেটি করা হয়নি। গণভবনে শেখ হাসিনা বাস করেছে, বলেই জুলাই জাদুঘর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এটি কোনোভাবেই উচিত হয়নি।
ছাত্ররা কোনো কিছু করতে চাপ দিলেই ক্ষমতায় থাকার জন্য সব কিছু মেনে নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করে মোস্তফা ফিরোজ বলেন, ‘চুপ্পুকে যদি সে সময়ে মেরে ফেলা বা বঙ্গভবন থেকে বের করে ফেলতে পারত তারা তাহলে সেখানেও জাদুঘর বানাত। কারণ তিনি জানতেন ক্ষমতা আজ আছে তো কাল নাই।
বাংলাদেশ জাহান্নামে যাক তাতে তার কি? কোনো পরিকল্পনা নাই, একটা মবতন্ত্র কায়েম করে, তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এই প্রবীন সাংবাদিক আরো বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলামও বলেছেন, উনি (ইউনূস) সমস্যায় পড়লে সবাইকে ডাকেন।
কিন্তু উচিত ছিল অন্তবর্তী সরকারের সময়ে প্রতিনিয়ত রাজনৈতিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। উনি তাদের এড়িয়ে গিয়ে পারিবারিক, বন্ধুবান্ধব এবং ছাত্রদের নিয়ে ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ছাত্রদের ওপর ভর করে ক্ষমতায় থাকবেন”।
