ঢাকা: যার কিনা একটা পিঁপড়া মারতেও হাত কাঁপে, তিনি মারবেন মানুষ? চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা এনে তাঁকে কারাগারের প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
জঙ্গী ইউনূস যে অপরাধ করেছেন সেই ধারাকেই অব্যাহত রেখেছে তারেক রহমানের সরকার।
রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় সাজানো মামলার আড়ালে সংখ্যালঘু দমনের নীলনকশা চলমান রয়েছে। এবং টার্গেট চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
এইযে হিন্দুরাও এত আশা নিয়ে ভোট দিলো বিএনপিকে, দেশের এইসব ছবি দেখার জন্য নয় তো! হিন্দুরা আশা করেছিলো, আওয়ামী লীগ নেই, বিএনপিতে ভোট দিলে কিছুটা রেহাই হবে। চিন্ময় প্রভুর মুক্তির কথাও হয়তো তাঁরা স্মরণ করেছিলেন।
কিন্তু চিন্ময় প্রভুর জামিন নামঞ্জুর হয়ে গিয়েছে।
চট্টগ্রামের আলোচিত আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে যুক্তিতর্ক শেষে তাঁকে জামিন দেননি হাইকোর্ট।
তাঁর জামিন বিষয়ে জারিকৃত রুল খারিজ করে রবিবার (১০ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পাশাপাশি অপর চার মামলায় তাঁর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামীকাল দিনটি ধার্য করে আদালত।
৫ আগস্টের পর সারাদেশে যখন একযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চলছিল, তখন যারা প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ছিলেন তাঁদের অন্যতম। মারামারি নয়, হাতাহাতি নয়, খুন নয়, মব নয়, শুধু সামান্য কয়েকটি কথা ইউনূসের কলজে ছিঁড়ে ফেলেছিলো।
আর ঠিক তখনই রাষ্ট্রযন্ত্র নড়ে ওঠে তাঁকে থামাতে। শুরু হয় অত্যাচার।
চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে ফাঁসানো হয় চিন্ময় প্রভুকে।কাগজে-কলমে এটাকে বিচার বলা হলেও বাস্তবে এটি অবৈধ জামাতি ইউনুস সরকারের আরেকটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক অপারেশন ছিলো, এবং এখনো তাই।
একটি সাজানো জাতীয় পতাকা অবমাননার মামলা বানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে ঘটনায় তিনি সরাসরি জড়িত নন, যেখানে তথাকথিত গেরুয়া পতাকাটি তার সমাবেশস্থল থেকে অনেক দূরে ছিল, সেই ঘটনাকেই রাষ্ট্রদ্রোহ বানিয়ে হাজির করা হয়। কারণ একটাই, সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলার অপরাধ।
চিন্ময়কে আদালতে তোলার দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে আদালত চত্বরে অবস্থান নেয়। কোনো হামলা নয়, ভাঙচুর নয়। কিন্তু পুলিশ তখনই লাঠিচার্জ চালায়। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, ভয় দেখানো, ছত্রভঙ্গ করা।
আর সেই অরাজক মুহূর্তেই জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কুপিয়ে, পিটিয়ে, প্রকাশ্য রাজপথে হত্যা করে।
এরপর শুরু হয় খেলা। হত্যার দায় চাপানো হয় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ওপর। ব্যভিচার কাকে বলে?
সে সময়টায় তথা সেই সময়ের অনেক আগেই চিন্ময় পুলিশের হেফাজতে বন্দি। তাহলে কার হুকুমে, কীভাবে তিনি হত্যার নির্দেশ দিলেন?
জামাত শিবিরের গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ফাঁসায় তাঁকে।
প্রসঙ্গত, এদিন আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শায়লা শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আলামিন।
