ঢাকা: মাশরাফি বিন মর্তুজা তিনি সফল অধিনায়ক,সভ্য মানসিকতা ও দক্ষ নেতৃত্বের নাম। আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচন করেছিলেন বলেই তাঁর বাড়িটি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিলো?
হ্যাঁ এটাই কারণ।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের একজন মাশরাফি! শুধু সেরা খেলোয়াড় না, সেরা অধিনায়কদের একজন। এমনকি এই দেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে মাশরাফি বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক!
অথচ সেই মাশরাফির বাবাকে মিডিয়াতে এসে বলতে হচ্ছে তারা আজ পথের ফকির! এমনকি তিনি এটাও বলেছেন মাশরাফি তাঁর পরিবারকে বলেছেন তিনি মারা গেলে তাঁর কবরটা যেন নড়াইলে না দেওয়া হয়।
কতটা অভিমান আর বেদনা থেকে তিনি বলেছেন এই কথা। যাদের হয় তারা বোঝে!
শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং তাঁর দেশ ছাড়ার পরেই জঙ্গী রাজাকার, জামাত শিবিরের শাবকরা হামলা-ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কার্যালয় ও বাসভবন। সব ম্যাটিকুলাস ডিজাইন।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার নড়াইলের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়।
দ্বিতীয়বারের মতো আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মাশরাফি। তবে কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের অনেকে সংহতি জানালেও মাশরাফি ছিলেন নীরব। এ নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয়।
নীরব থাকলেও বিপদ। অবশ্য জঙ্গীরা তাই চেয়েছিলো।

সরকারের পদত্যাগের পরই জঙ্গীরা নড়াইলে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়।
মাশরাফি ছাড়াও নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, জেলা আওয়ামী কার্যালয়েও আগুন দেয়া হয়।
সাকিব আল হাসান প্রায়ই ইন্টারভিউ দিচ্ছেন , কিন্তু মাশরাফি দেন না। এক সংবাদমাধ্যমে কেবল তাঁর বাবা কথা বলেছেন।
মাশরাফি তাঁর বাবাকে বলেছেন, তার মৃত্যু হলেও যেন জন্মস্থান নড়াইলে না নিয়ে যাওয়া হয়। এরচেয়ে কষ্টদায়ক একটা বাবার কাছে কি হতে পারে কেউ একটু বলতে পারবেন?
নড়াইলে ভালো কাজের চেষ্টা করেছিলেন মাশরাফি। আর সেই মাশরাফি এখন আর আগের মতো নেই।
তার বাবার কথাগুলো –
“মাশরাফির এখন আর কোনো জীবন নাই। একটা মানুষ খায়-দায়, ঘুমায়। কথা খুব কম বলে, বলে না। সেই মাশরাফি আর নেই। খুব আঘাত পেয়েছে। সে ঘরের থেকে বের হয়না বলে যে আমাকে নিয়ে গেলে নিয়ে যাক আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে আমি এমন কিছু করিনাই যেটা মানুষের খারাপের দিকে যাবে। মাশরাফির ঘাম জড়ানো টাকা সে ব্যয় করেছে।
আমাদের বাড়ি তো পুড়িয়েছেই, নড়াইল এক্সপেসের এত সুন্দর একটা জিম সেটাও পুড়িয়ে দিয়েছে। সেটা তো উপকারের জন্যই করেছিলো। ভালো মানুষের কোনো মূল্য নাই, কেউ মূল্য দেয় না। রাজনীতিকে মূল্য দেয়, দলকে মূল্য দেয় কিন্তু ভালো মানুষকে না। খুব করুণ অবস্থা বলতে গেলে, একেবারে পথের ফকির।
আমাদের তো নগদ টাকা পয়সা ছিলও না, নাইও। আমরা ঐ যে ধান্দাবাজি করে খাওয়া লোকও না পছন্দও করিনা। আমি মারা গেলে আমার লাশটা নড়াইলে নিয়েন না। এটা কস্ট পেয়েছিলাম যে ছেলের মুখে এই কথা শুনবো আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।”
শরীরের ক্ষত আর পায়ের ব্যান্ডেজ যার ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে, সবুজ গালিচায় সেই অদম্য বীরের নাম মাশরাফি বিন মর্তুজা আজ কতটা মনোকষ্টে আছেন।
আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না, মাশরাফি একটা টাকা দুর্নীতি করেছে। এমপি হওয়ার পরেও সাধারণ মানুষ হয়ে ট্রাউজার, টি-শার্ট পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নড়াইলের মানুষের দ্বারেদ্বারে, সবার সুখ দুঃখের খোঁজ নিচ্ছেন।
সেই মাশরাফির বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দেওয়া হলো। ধ্বংস করে ফেলা হলো তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সব ট্রফি, স্মৃতি চিহ্ন।
দেশে খুনীরা বুক ফুলিয়ে রাস্তায় নেমে রাজনীতি করছে। জুলাই আন্দোলনের পর অনেক বড় বড় সন্ত্রাসীরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। যারা নির্দিষ্ট একটা দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।
শুধু দেশ প্রেম জেগে উঠে কেবল সাকিব মাশরাফির বেলায়। ভাবা যায় কত বড় দেশপ্রেমিক আমরা!
