ঢাকা: বাংলাদেশে গণগ্রেপ্তার চলছে। ডজনে ডজনে গ্রেপ্তার। মতের অমিল হলেই গ্রেপ্তার!
সম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকসহ দলীয় অনেক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।
এ ধরনের গণগ্রেপ্তারকে বাংলাদেশে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর আক্রমণের সর্বশেষ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়।
গণগ্রেফতারের ঘটনাকে বাংলাদেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর কর্তৃপক্ষের ‘চলমান আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটি বলছে, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির একই ধরনের অধিকার লঙ্ঘনকে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দিতে পারে না।
সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বাংলাদেশের বর্তমানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের প্রায় ২৯০ জন সমর্থককে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুব সংগঠন যুবদল দাবি করেছিল, ওই সমাবেশটি মূলত নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক।
ওই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২৭ জনকে রিমান্ডে পাঠায় আদালত। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এইচআরডব্লিউ উল্লেখ করে, জাসদ মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অংশ ছিল। এই জোট ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। এরপর ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে সরকারটির পতন ঘটে, যে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষ নিহত হন।
মানবাধিকার সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তীব্র নিপীড়নের শিকার হয়েছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দলটি এখন নিজেদের কথিত বিরোধীদের নির্বিচারে আটকের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
বর্তমানে শত শত আওয়ামী লীগ সদস্য কারাগারে রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
পুলিশ বারবার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কথিত সমাবেশে অভিযান চালিয়েছে বলে জানায় এইচআরডব্লিউ।
সংস্থাটি জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের সভার দিনেই বরিশালে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’র অভিযোগে ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
আবার এর দুই দিন পর একই অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকায় আরও ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে উভয় ক্ষেত্রেই আটককৃতরা জানিয়েছেন, তারা শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
এইসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় এইচআরডব্লিউ।
