ঢাকা: খাওয়া শেষ,এখন নতুন একটা খুলবে কাল থেকে, সেটা দিয়ে আবার কয় দিন ব্যবসা করবে!

কট্টরপন্থী হাদি বেঁচে থাকলে জামাত কানেকশনে কিছু হালুয়া রুটি আর মিডিয়া কভারেজ পাওয়া যেতো।

নাহ! হাদিকে মেরে ফেলা হয়েছে, তাই বলে কি ব্যবসা থেমে ছিলো ওদের? একটুও না।

হাদি মারা যাওয়ার পরও হাদি বিজনেস এসোসিয়েশনের মাধ্যমে ব্যবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু ব্যবসা এখন পুরোপুরি মন্দা।

হাদি ব্যবসায় আগের মত লাভ নেই। আর পোষাচ্ছে না তাই কেটে পড়লো জাবের, জুমার।

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ নিজ আইডি থেকে দেওয়া পোস্টে তারা এই কথা জানান।

জাবের তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,

“আমি আব্দুল্লাহ আল জাবের, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান। শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের পূর্বে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিলেও শেষ করে যেতে পারেননি।

যেহেতু এটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে জনতার আমানত হিসেবে পরিচিত ও পরিকল্পনাও এমনই ছিল, তাই আমরা বিগত ছয় মাস শাহাদাত পরবর্তী উত্থাপিত ওয়ারিশ সংক্রান্ত ইস্যু সমাধানের চেষ্টা করেছি। সমসাময়িক সময়ে আমরা নানাবিধ প্রোডাক্টিভ কাজের পরিকল্পনাও হাতে নিই, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন বিষয়গুলো আরো জটিল হয়ে পড়েছে।”

জাবের আরও লিখেছেন, “আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ভীষণ ভালোবাসা ও সম্মান আপনারা আমায় দিয়েছেন তার জন্য আমি আজীবন কৃতজ্ঞ।

আপনাদের অসম্ভব বিশ্বাসের দায় রক্ষা করতে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। কতখানি পেরেছি জানি না। তবে শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের পর ঢাকা ৮, সেন্টারসহ সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় এই সংক্রান্ত হিসাব ব্যতীত আমার দায়িত্বকালীন সময়ের অন্যান্য সব হিসাব দ্রুততম সময়ে পাবলিক করা হবে।

ইনসাফের লড়াই ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যে স্বপ্ন শহীদ ওসমান হাদি জাগিয়ে গিয়েছেন, তা বয়ে নেওয়ার যে বিশাল ভার খোদাতায়ালা আমাদের কাছে সমর্পণ করেছেন, তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য দোয়া চাই। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার কেন্দ্রীক আমার যাত্রা এতটুকুই। হাসবি আল্লাহ।”

অন্যদিকে, ফেসবুকে জুমা লিখেছেন, “আমি ফাতিমা তাসনিম জুমা, ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। জুলাই পরবর্তী নানান রাজনৈতিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আমি ইনকিলাবে যুক্ত হই বাংলাদেশপন্থি কালচারের স্বার্থে।

ইনকিলাব যখন কালচার থেকে কিছুটা পলিটিক্যাল হয়ে উঠতে শুরু করে, আমি শহীদ ওসমান হাদির নিকট অভিযোগ করছিলাম, কালচার থেকে যেন ফোকাস না হারাই। এরপর আমরা সকলে হাতে করে দিন রাত এক করে আস্তে আস্তে এই সেন্টার গড়ে তুলি।”

জুমা লেখেন, “এই সকল সমস্যা চিন্তা করে ট্রাস্ট গঠনের চেষ্টা চালালেও শেষ করে যেতে পারেননি হাদি ভাই। শহীদ ওসমান হাদির পর জনগণ আমাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছে সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমরা জনতার আমানত রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। তবে ইদানীং সময়ে ওয়ারিশ সংক্রান্ত বিষয় নানান আলাপ আপনারা পাবলিক হতে দেখেছেন।

যেখানে নানাবিধ অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য প্রচারিত হয়েছে। আই ডোন্ট থিংক আই হ্যাভ দ্য রাইট টু ক্যারি দিজ বার্ডেনস হোয়াইল আই অ্যাম স্টিল লিভিং অন মাই প্যারেন্টস মানি। আমার বাবা-মা অন্তত এসব দেখা ডিজার্ভ করে না।”

জুমা আরও লেখেন, “আল্লাহ তায়ালা শহীদ ওসমান হাদিকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তার ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে ও সমস্ত দলিল দস্তাবেজ সাপেক্ষে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেহেতু ভাইয়ের শাহাদাতের পূর্বের সকল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, এর পর হতে ও আমার দায়িত্বকালীন সময়ের সেন্টারের সকল হিসাব দ্রুততম সময়ে পাবলিক করা হবে। আপনাদের ভীষণ বিশ্বাস ও ভালোবাসার দায় ইনকিলাব মঞ্চ রাখবে ইনশাআল্লাহ। লড়াইটা আমাদের নিকট মুখ্য, লড়াই চলবে অন্য কোনও মাধ্যমে, অন্য কোনও উপায়ে। জিতটাই কেবল জীবন নয়, লড়াইটাই জীবন।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *