ঢাকা: ৫ আগস্টের পর সারাদেশের সব ভাস্কর্য ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কারা ভেঙেছে? জামাত-হেফাজতসহ প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। বেশিরভাগই মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় বীরদের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে।

পাকিস্তানি রাজাকারের শাবকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় পা দিয়েছে, প্রশ্রাব করেছে, জ্বালিয়ে দিয়েছে- যত জঘন্যতম কাজ আছে সব করেছে।

কয়দিন আগেও একটা রিপোর্ট চোখে পড়ল—”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা রবীন্দ্রনাথ, মধূসুধন, নজরুলসহ অন্য গুণীদের ভাস্কর্য মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বিএনপি সরকারের উদ্যোগ নেই সেগুলো সংস্কার ও পুনঃস্থাপনে।”

কিন্তু এক আশ্চর্য ব্যাপার হলো, সিনেমা তাদের কাছে হারাম হলেও গুপ্ত সরয়ার ফারুকী তাদের আদর্শে পরিণত হলেন। সিনেমা হারাম, গান বাজনা হারাম, কিন্তু ফারুকি আরাম! কেন ভাই?

তিনি হয়ে গেলেন হালাল সিনেমাকার। জুলাই জাদুঘর হলো তাঁর তত্ত্বাবধানে। সেখানে ভাস্কর্যও বানানো হয়েছে! কথাটা কাল্পনিক মনে হতে পারে, তবে সত্য।

যে জামাত-হেফাজত ভাস্কর্য ইস্যুতে দেশ গরম করেছে, ভাঙচুর দাঙ্গা হাঙ্গামা করেছে, মূর্তি দেখলে তারা গলার রগ ছিঁড়ে ফেলেছে, সেই তাদেরই মূর্তি বা ভাস্কর্য বানানো হয়েছে! এখন তারা চুপ। কিছু বলছে না।

হারামের ফতোয়া নিয়ে রাস্তায় গড়াগড়ি করছে না। কেন ভাই? আপনার কোথায় গেলেন এখন? খুব আরাম লাগছে এখন? আহারে আরাম!

এটা তো পরিষ্কার বোঝা যায়, ভাস্কর্য নয়, এদের কাছে হারাম হলো মুক্তিযুদ্ধ। এদের কাছে হারাম জ্ঞান বিজ্ঞান ও গুণী ব্যক্তিরা। বাদবাকি সবই হালাল।

গণভবনকে তথাকথিত, নাম দিয়েছে জুলাই জাদুঘর। সেইখানে অনেকগুলো মূর্তি।

আওয়ামী লীগের সময় মূর্তি হারাম হলে এখন মূর্তি হালাল হয় কিভাবে?

ইসলামের লেভেলে যারা রাজনীতি করে এবং সুবিধাবাদী সুশীল মার্কা শায়েখদের মুখে কুলুপ কেনো?

এই দুইটার তো হুকুম একই নাকি আলাদা?

এদেশে মূর্তিরও জাত আছে। বুঝলেন তো? একটা বৈধ আরেকটা অবৈধ! জুলাই জাদুঘরে ভাস্কর্য! এটা জায়েজ ১০০% হালাল!

একমাত্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য জায়েজ নাই! সমস্যা আসলে ভাস্কর্যে ছিল না, সমস্যা ছিলো বঙ্গবন্ধুতে, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রে তাদের সমস্যা, সমস্যা একাত্তরে, সমস্যা দেশটাকে এখনো পাকিস্তান বানাতে না পারা।

পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ করাই ছিলো রাজাকারদের জ্বালা- অন্তরে জ্বালা।

এখন প্রশ্ন উঠছে একাধারে অনেক।

ইসলামের বিধান কি ক্ষমতাসীন ব্যক্তি, দল কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল?

যদি মূর্তি সত্যিই হারাম হয়, তাহলে ক্ষমতা যারই হোক—অবস্থান একই হওয়া উচিত।

আর যদি কোনো নির্দিষ্ট ধরনের ভাস্কর্য ইসলামী দৃষ্টিতে বৈধ হয়, তাহলে অতীতে একই ধরনের ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে এত কঠোর বক্তব্যের ব্যাখ্যাই বা কী?

এখন জাদুঘর থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণের জন্য মিনমিন করে দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে দলটির নেতারা এই দাবি জানান।

জমিয়ত নেতারা বলেন, কোনো ব্যক্তি কিংবা ইসলামি দলের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য স্থাপন করা শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ নয়। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে থাকা হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য অপসারণ করা উচিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *