রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধুন্দুমার কাণ্ড! রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়েছে।
সাংবাদিকরা নিজেদের কাজ করার সময় এই মারণ হামলার শিকার হন। অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
ঘটনায় চারজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে চারজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে।
জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই।
এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে”।
দেশের আইনশৃঙ্খলার কিরকম পরিস্থিতি হলে ভয়ে পুলিশ পালিয়ে যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়। সম্ভবত এই কারণেই ভয়ডরহীনভাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো যায়।
এইসব ঘটনার বিচার হবে কি হবেনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
গুরুতর আহত সাংবাদিকেরা হলেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়াও আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে জানা যাচ্ছে, হামলাকারীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী এ হামলায় ছিলেন।
হামলার এক ভিডিওতে দেখা যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাংবাদিকদেরই ‘গুপ্ত শিবির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘কোন নিরপেক্ষ সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, জিয়া হলের জিএস আরিফুলকে ধরতে জিয়া হলে গেলে সংক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর যেসব সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানা হামলা করতে এসেছে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে মাত্র।’
