তেজগাঁও: এক মাস ১৬ দিন বয়সী শিশুকে নিয়ে মা কারাগারে! হায়রে ভাগ্য! হায়রে রাষ্ট্র!

তেজগাঁও থানা যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী আক্তারকে তাঁর নবজাতক শিশুবাচ্চা সহ গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ!

অবাক হওয়ার কিছু নাই, মনুষ্যত্ব আর বিএনপি এক কাতারে থাকতে পারেনা। এদেরকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল দেখার পরেও শেখ হাসিনার ক্ষমা করে দেয়া ছিল অন্যতম বড় ভুল।

এই সরকার আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাঝে কী পার্থক্য থাকলো? নিজেদের কি সেটা প্রমাণ করতে পারলো বিএনপি?

একজন মা, যার বুকে এখনো দুধের শিশুর উষ্ণতা—তার জীবনের এই সময়টা হওয়ার কথা ছিল নিরাপত্তা, মমতা আর যত্নে ভরা সন্তানকে নিয়ে। সেই অবলা শিশুটা কী বোঝে?

কিন্তু বাস্তবতা আজ তাকে ঠেলে দিয়েছে এক কঠিন পরিবেশে।

এই তীব্র গরমে, যেখানে বড় মানুষই কষ্টে থাকে, সেখানে এত ছোট্ট একটি শিশুর অবস্থা কেমন হতে পারে—একবার ভাবলেই বুক কেঁপে ওঠে।

এই নিষ্পাপ শিশুটি তো কোনো অপরাধ করেনি, তার দুনিয়া শুধু মায়ের কোলে। মায়ের কোলটাই তার নিরাপত্তা। কারাগার কী পারবে এই একরত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে?

ভুয়া মামলায় এই সদ্য মাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি মোসা. শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

শুনানি শেষে তিনি তার সঙ্গে থাকা ১ মাস ১৬ দিন বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন।

দাবি করেন, তাঁকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে এক মাস ১৬ দিন বয়সী শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুটিকে নিয়ে কারাগারে থাকলে তাঁর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

এ সময় আদালতে উপস্থিত আসামির খালা উম্মে কুলসুম সুমি দাবি করেন, তার ভাগনির শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তার হাত ভাঙা—এ অবস্থায় কারাগারে থাকা তার জন্য কষ্টকর।

মামলার নথি অনুযায়ী, বাদীর ছেলে মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১), যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী।

তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় হামলা ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়, একই বছরের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামির নির্দেশে বিপুলসংখ্যক লোকজন দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়।

এতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় বাদীর স্বামী মো. সোহেল রানা গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *