ঢাকা: জুলাই যোদ্ধা না, এরা হচ্ছে জঙ্গী। জঙ্গী আন্দোলনের যোদ্ধা। একটা নির্বাচিত সরকার ফেলে দিয়ে, দেশ নষ্ট করে, পুলিশ মেরে ঝুলিয়ে এখন গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছে।

বলছি সেই দাঁতাল হাতির কথা। আসলে আমরা কাউকে ছোট করতে চাইনা। কিন্তু মাহাদি জঙ্গীকে বললেও কোনো আপত্তি নেই।

স্বঘোষিত পুলিশ হত্যাকারী জুলাইযোদ্ধা মাহাদি ছাত্রদলের ধাওয়া খেয়ে আশ্রয় নিয়েছে শেষমেষ থানায়।

মনে আছে তো মাহাদির কথা? ভারতে গিয়ে এমন প্যাঁদানি খেয়েছে, তারপর ফিরেছে ছুঁচোর মতো দেশে। আর ওমুখো কোনোদিন হতে পারবে না।

‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি’- সেই জঙ্গী বাটপার থানায় ওসির সামনে বসে হুমকি দিয়ে চলতি বছরের শুরুতে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তুলেছিলো। হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহাদী হাসানের কথাই বলছি।

পাঁচ মাসের মাথায় সেই মাহদীই নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিলো থানা পুলিশের কাছে। কেন ভাই? তোর সহযোদ্ধারা কোথায় এখন?

ছাত্রদলের কর্মীরা হামলা চালাতে আসছে অভিযোগ করে মাহাদী আজ বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করে।

এ সময় দেখা যায়, মাহাদী আতংকে রীতিমতো কাঁপছে। প্রাণ বাঁচাতে আরেক জনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছে হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে।

লাইভের শেষ দিকে থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান লাইভে দাবি করে, ছাত্রদলের কর্মীরা নাকি তার ওপর হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে। এ ঘটনায় সদর থানায় আশ্রয় নিয়েছে।

ফেসবুক লাইভে মাহাদী বলে, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পার্সোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পার্সোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষ দিকে বলে, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম, এখানে আমার একটি নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’

মাহাদী হাসানের দাবি, আগেই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করেছিলো।

সারা দেশ কেঁপে গিয়েছে পুলিশদের ওপর কীভাবে অত্যাচার হয়েছে আগস্টে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনে একদল জঙ্গী বানিয়াচং থানায় আক্রমণ চালিয়ে অস্ত্র লুট ও অগ্নিসংযোগ করে এবং অর্ধশতাধিক পুলিশকে অবরুদ্ধ করে।

গভীর রাতে পুলিশ সদস্যদের থানার ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে থানা চত্বরেই পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার মরদেহ থানার সামনে একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে এই জঙ্গী মাহাদি।

এদিকে, হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি।’

ওসি আরো বলেন, ‘সমন্বয়ক মাহদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বর্তমানে থানায় অবস্থান করছেন।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *