ঢাকা: মাইলস্টোনের ঘটনার কথা মনে আছে দেশবাসী? মনে না থাকার কোনো কারণ নেই। কারণ যার সন্তান হারায় তার বুকের ব্যথা কোনোদিন কমে না।

নিহত শিশুদের আত্মা এখনো প্রশ্ন করে আমাদের হত্যার বিচার কে করবে? দায় এড়ানো যাবে না। এই লাশগুলো গোটা জাতিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ এক বস্ত্রহীন, অস্ত্রহীন, দায়িত্বহীন সরকারের শাসনে বন্দি ছিলাম।

মাইলস্টোন ট্রাজেডি স্রেফ দুর্ঘটনা ছিল না, সেটা ছিল আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা।আন্তর্জাতিক বাটপার ইউনূস বিমান বাহিনীর জঙ্গি ব্যবহার করে শিশুদের হত্যা করেও শান্ত হয় নাই। চাঁদাও তুলতে চেয়েছিল।ফেসবুকে চাঁদার জন্য পোস্টও করেছিল। তারপর জনগণের খিঁচুনি খেয়ে সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়।

আমেরিকার দালাল ইউনূসের প্রথম টার্গেট ছিল শিশুরা যা হারে হারে টের পাচ্ছে মানুষ। হামের টিকাও ইচ্ছা করে আনে নাই জঙ্গি ইউনূস।

২১ জুলাইয়ের মাইলস্টোন ট্রাজেডি আজো বুকে দাউদাউ করে আগুন জ্বালায়। মা বাবার ক্রন্দনরোল কানে বাজে।

রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত ব্যর্থতার নগ্ন প্রকাশ দেখা গিয়েছে। একটি যুদ্ধবিমান শিশুদের ওপর বিধ্বস্ত হয়ে শতাধিক প্রাণহানি ঘটালেও ইউনুস সরকারের কারো মুখে দুঃখ ছিলো না, কারো মুখে দায়িত্বের ভাষা ছিলো না।

বেলা গড়িয়েছে আর লাশ গুম করার ব্যবস্থা করেছিলো এই জঙ্গী ইউনুস এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নেই, শিক্ষা উপদেষ্টা মুখ বন্ধ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উধাও আর আইনের উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনের বদলে ফেসবুকে ছড়া-কবিতা লিখেছেন, মনে আছে নিশ্চয়ই।

ভন্ডামির শেষ নেই ইউনূসের! বামনের মতো হাতগুলো নাড়িয়ে নাড়িয়ে ইউনুস বারবার বলেছেন এদেশের তরুণদের সম্ভাবনার কথা।

সারা পৃথিবী থেকে নাকি ডাক আসবে বাংলাদেশের তরুণদের, বিভিন্ন দেশ থেকে তার কাছে নাকি ফোন আসছে বাংলাদেশের তরুণদেরকে নেওয়ার জন্য, সারা পৃথিবী নাকি আসবে বাংলাদেশের কাছে, বাংলাদেশ কোথাও যাব না।

অথচ একটা তরুণ প্রজন্মকে তিনি পুরো ধ্বংস করে দিয়েছেন। শিশুরা আজ মারা যাচ্ছে হামের টিকা না পেয়ে। এর প্রতিবাদ আছে?

তাঁদেরকে স্কুল-কলেজ থেকে রাস্তায় নামিয়ে আর ক্লাসরুমে ফেরত পাঠাননি, ব্যবহার করেছেন তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য।

এদেশের তরুণদেরকে জঙ্গি হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে।

এবার রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিক্ষার্থীসহ বহু হতাহতের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে এই আবেদন করেন ওই ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা।

শুনানিতে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শরিফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ওই ঘটনায় ‘দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তা ঘাটতি’র অভিযোগ তুলে মামলার এ আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে ড. ইউনূস তো বটেই, তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোরা যেমন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার ভাইস মার্শাল মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, গ্রুপ ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রিন্সিপাল (প্রশাসন) মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজউক চেয়ারম্যান ও রাজউকের ফিল্ড সুপারভাইজারকে (উত্তরা) আসামি করা হয়েছে।

মামলার আবেদনের অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও তদারকির ঘাটতির কারণেই প্রাণঘাতী এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সেখানে আরও বলা হয়, আসিফ নজরুল, রিজওয়ানা হাসান, সি আর আবরার, শফিকুল আলমরা ওই সময় অগ্নিদগ্ধদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও উপকরণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, নির্দেশনা দিতে মারাত্মকভাবে অবহেলা করেন।

ঘটনার সময় সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকা মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনাকবলিত যুদ্ধবিমানটি তার অধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। দুর্ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেবেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণা করেছেন—বলা হয় আবেদনে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *