ঢাকা: শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হঠাৎ পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

দীপেন দেওয়ান কি শুধু অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করলেন? বিষয়টা এতটাই পান্তাভাত?

অসুস্থ হতেই পারেন, তাই বলে মন্ত্রীত্ব করতে পারবেন না একবারে, এ কেমন অসুস্থতা? তেমন হলে তো বিদেশে যেতেন চিকিৎসার জন্য!?

এতটাই পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন কি তিনি?

সরকারি ভাষ্য বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ অনেক প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে। এবং তারেক রহমানের কঠিন সময়ের বার্তা দিচ্ছে।

একজন সাবেক বিচারক। দীর্ঘ সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা। দেশের সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। মন্ত্রীত্ব পাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন?

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে কি এমন কিছু সিদ্ধান্ত, নীতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সামনে আসছিল যার সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন না? পরিচ্ছন্ন মানুষটিকে কি পুতুল বানিয়ে ফেলা হচ্ছিলো?

অনেকেই মনে করছেন, এর নেপথ্যে শাসকগোষ্ঠীর তাঁকে পুতুলের মতো ব্যবহার করার প্রচেষ্টা, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অবনতি, নেতৃত্বের মধ্যে অসহনীয় পর্যায়ে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার প্রতিফলন রয়েছে।

আসলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি, চলমান উত্তেজনা, ভূমি, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগ নানা রকম প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। এই অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজকর্ম যথাযথভাবে পালন করতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তাঁর পক্ষে এই পদে অব্যাহতভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণেই পদত্যাগ করাকে তিনি সমীচীন মনে করেছেন।

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে দীপেন দেওয়ান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দীপেন দেওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।

উল্লেখ্য, দীপেন দেওয়ান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *