চট্টগ্রাম: আর কত সনাতনী মরলে হে রাষ্ট্র তোমার চোখে পানি আসবে? সাধু নয়ন‌ দাস, দীপু দাস, বুলেট বৈরাগী- এগুলো তো মাত্র কয়েকটা নাম। এরকম দীপু, নয়ন হাজার হাজার আছে। যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ রাষ্ট্র বরাবর চুপ থেকেছে।

সনাতনীকে হত্যা করলে কিচ্ছু যায় আসে না। কারণ ওরা তো মানুষই না। যে কোনো সরকারের আমলে হোক, সনাতনী কোনোদিন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারেনি এই রাষ্ট্রে।

চট্টগ্রামে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নয়ন সাধুর মরাদেহ মিলেছে গহিন জঙ্গলে অর্ধ পোড়া ফাঁসে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায়।

দীপু দাস এবং নয়ন সাধুকে মারার সিস্টেমটা কিন্তু একই ধরনের মারার পর পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। বুঝতে বাকি থাকে না কাদের কাজ।

কিন্তু বাংলাদেশের আইনের যা অবস্থা এদের কাছে সুষ্ঠু বিচারের আশা করা আর ব্যাঙের সর্দি ধরা একই বিষয়।

যেখানে দিপু দাস হত্যার আসামি সনাক্ত হওয়ার পরেও জামিনে ছাড়া পায়। সেখানে নয়ন সাধুকে মারার পিছনে কারা আছে এই ক্লু পর্যন্ত নেই।

এই হত্যার বিচার যে তার পরিবার পাবে এটার কোন ভিত্তি দেখা যাচ্ছে না।

দীপু দাসকে না হয় তথাকথিত ধর্ম অবমাননার ট্যাগ দিয়ে মারা হয়েছে (কিন্তু সব মিথ্যা)কিন্তু নয়ন সাধু অপরাধ কি???

যেখানে একজন সাধু নিজ শরীর বসে রক্তপান করা মশাকে মারতে ভয় পান পাপ হবে বলে। সেখানে তার কি অপরাধ থাকতে পারে?

এদিকে হত্যা করা হয়েছে বুলেট বৈরাগীকে।
হঠাৎ করে জলজ্যান্ত মানুষটা নাই হয়ে গেলো।

এভাবে একটা সরকারি কর্মকর্তা নাই হয়ে গেলো ; অথচ তেমন কোনো হেলদোল নেই সরকারের।

কাস্টমস অফিসার ছিলেন তিনি। এই রকম একজন কর্মকর্তাকে কারা মেরে ফেললো,কেন মারলো,কিভাবে মারলো তার জন্যতো এতক্ষণে রাষ্ট্রকেই উথাল পাথাল হওয়ার কথা! কিন্তু কোথায় সব করে রব?

তাঁর মাসের বাচ্চা এতিম হয়ে গেলো। তাঁর স্ত্রী বিধবা হয়ে গেলো। সব কিছু মুহূর্তেই হলো। এ কেমন জীবন বলতে পারেন?

কক্সবাজারে নয়ন সাধুকে পুড়িয়ে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, প্রতিমা ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের জমি দখল, হামলার প্রতিবাদ, দীপু চন্দ্র দাস হত্যার বিচার ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ সকল কারাবন্দীর মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ সনাতন পার্টির উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জেও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের কালিবাড়ি মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিলয় পাল আদর এর সভাপতিত্বে, জেলা সাধারণ সম্পাদক উৎপল ভৌমিক অর্থ এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—বাবু নারায়ণ দত্ত প্রদীপ (সভাপতি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ), বাবু জীবন চন্দ্র দাস শ্রীমতি চন্দ্রা সরকার (সাধারণ সম্পাদক, জেলা মহিলা ঐক্য পরিষদ)সহ আরও অনেকে।

বক্তারা নয়ন সাধু হত্যার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *