ঢাকা: দেশে দমননীতি চলছে। নাশকতা সত্যিকারের যারা করছে তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে, অথচ হাজতে পাঠানো হচ্ছে আওয়ামী লীগকে।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তারা এখন নিজেদের বিরোধীদের নির্বিচারে আটক করছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি আছেন।

পুলিশ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের যেকোনও জমায়েতেই বারবার অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ ২৬ সেপ্টেম্বর জাসদের সভার দিনেই বরিশালে ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করে। অভিযোগ ছিল, তারা ‘নাশকতার পরিকল্পনা’ করতে ‘গোপন’ বৈঠক করছিল।

ঠিক দুদিন পর পুলিশ একই অভিযোগে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকায় আরও ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে দুই ক্ষেত্রেই আটকদের দাবি, তারা কেবল শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে জড়ো হয়েছিলেন।

বিবৃতি দিয়ে এইচআরডব্লিউ বলেছে, বিএনপি মানবাধিকার ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এর বদলে নতুন সরকার এখন বিরোধীদের নির্বিচারে আটক করছে।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন বলেছেন, এর পরেই আরো বেশি ধরপাকড় শুরু হয়েছে।

সাঁড়াশি অভিযান চলুক, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু খুনী, মবকারী, রেপিস্ট না‌ ধরে ওরা ধরে আওয়ামী লীগ।

পরিকল্পনার (ব্লু-প্রিন্ট) আওতায় গ্রেফতার করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্দিষ্ট নেতাদের। গত এক মাসেই সারা দেশে অর্ধলক্ষাধিক লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে; যার বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

শেখ হাসিনা তো আসেননি এখনো দেশে, শুধু ঘোষণাতেই এতকিছু? এলে কী করবে?

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, গত এক মাসে সারা দেশ থেকে ৫৩ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ছয় দিনেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার। রাজধানী ঢাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এর মধ্যে বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৪৬৫ জনকে গ্রেফতারের খবর জানিয়েছে। গ্রেফতারদের বড় অংশই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী।

সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন খান জ্যোতি, পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা, তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল তালুকদার, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ধুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ভোলা প্রমুখ।

এ ছাড়া সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ রুহুল আমিন, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের রেনু মিয়া (যিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে আট ঘণ্টা পর ফের গ্রেফতার হন), রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মাজেদুর রহমান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আব্দুল বারিক, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সরকারসহ তৃণমূলের অনেক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *