ঢাকা: “এখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি… হ্যাঁ, আমি জানি। আমি যদি ফিরে যাই, তবে অবতরণের মুহূর্তেই ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, অথবা আমাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করতে পারে।” ওয়াশিংটন-ভিত্তিক একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন হাসিনা। কিন্তু তারপরেও তিনি আসবেন দেশে।
সেপ্টেম্বরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি বলেছি যে ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসার ইচ্ছা আমার আছে, কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়া যায় না। আমি যথাসময়ে ফিরে আসার সুনির্দিষ্ট তারিখ, সময় এবং প্রবেশের স্থান জানিয়ে দেব।”
শেখ হাসিনা আদালতের মুখোমুখি হবেন, নিজের দেশে ফিরবেন তাতে হৃদয় কেঁপে উঠছে রাজাকার, দেশদ্রোহীদের। উস্কানি দেয়ার চেষ্টা চলছে।
অবশ্য সময় সব কথা বলে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যা বললেন তাতে অবশ্য মনে হচ্ছে তিনি উস্কানি দিচ্ছেন।
বলেন, “আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনার ফেরার সম্ভাবনা নেই”!
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল, তখন সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। নির্বাচনি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। একজন মানুষ অর্থশালী বা বিত্তবান নয়, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা আছে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদেরকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের নির্বাচন করা সুযোগ হয়।’
তিনি বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত এবং প্রয়োজন। গত ১৭ বছর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। সারা দেশের বর্তমানের রিজার্ভ সমান দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, আরও গ্যাসের ভান্ডার আছে এখানে। ভোলার সাধারণ মানুষেরও গ্যাস প্রয়োজন। ভোলাবাসী অনেক দিন ধরে কষ্ট করছে। গ্যাস ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি। এ বিষয়ে আমি জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।’
