ঢাকা: ৫ই আগস্ট হচ্ছে একটা বাহানা! ম্যাটিকুলাস ডিজাইন। হয়তো কেউ কোথাও মারা গিয়েছে, সেটাও দেখানো হয়েছে আগস্টের হত্যাকাণ্ড হিসেবে। এবং দায়ী করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার মিথ্যা দাবি, জীবিত মানুষকেও মৃত দেখানোসহ জুলাই জঙ্গী অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনা হিসেবে দায়ের করা এমন বহু মামলা রয়েছে।

এক একটি মামলায় জীবিত ব্যক্তিকেও মৃত দেখানো হয়৷ পরে তদন্তে দেখা যায়, তিনি বেঁচে আছেন৷

এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়৷ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সারা দেশের আদালতে হওয়া এমন মিথ্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে অনেক ভুয়ো মামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ভুয়া মামলা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জন্য। এবং অভ্যুত্থানে মৃতের সংখ্যা বেশি দেখিয়ে আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য।

এই জুলাই জঙ্গী আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিতে নিজের স্ত্রী নিহত হয়েছেন এই দাবি করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে আসামি করে দায়ের করা এক মামলায় ‘ভুয়া মামলা’ বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

তদন্ত শেষে মামলার সব আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে মামলার বাদী মো. সুমনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করেছে তদন্ত সংস্থা। এই সুমন মৃত ফাতেমাকে চেনেন না, নিজের মুখেই স্বীকার করেছেন এই কথা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই শাহাদাত হোসেন গত ২৭ এপ্রিল আদালতে এই প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হওয়ার যে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে তেমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

এমনকি ‘ফাতেমা’ নামে যাকে নিহত দাবি করা হয়েছিল, তার সঙ্গে বাদী সুমনের কোনো সম্পর্ক পর্যন্ত নেই।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, মোহাম্মদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফাতেমা নামের এক নারী। পরে তাকে আশুলিয়ার ইয়ারপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিন্তু তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ওই কবরস্থানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত কাউকেই দাফন করা হয়নি।

কবরস্থান কর্তৃপক্ষও বলেছে ফাতেমা নামে কাউকে সেখানে দাফন করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুমনের কাছে নিহতের হাসপাতালের কাগজপত্র, মৃত্যুসনদ, দাফনের কোনো প্রমাণপত্র চাওয়া হলেও তিনি কিছু দিতে পারেননি।

তার দেওয়া ঠিকানায় গিয়েও পুলিশ তাকে খুঁজে পায়নি।

এহেন ঘটনায় পরে জিজ্ঞাসাবাদের সুমন স্বীকার করেন, তিনি ফাতেমাকে চিনেন না এবং ওই নামে কেউ নিহত হয়েছেন বলেও জানেন না।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তির ‘প্ররোচনা ও আর্থিক প্রলোভনে’ তিনি মামলা করেছিলেন। হয়তো এই লোভ দেখিয়েছিলো জুলাই জঙ্গী রাই।

সুমন আরও জানান, পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি মামলা থেকে সরে আসতে চাইলেও তাকে বলা হয় এখন আর পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

উক্ত মামলায় আসামি করা হয়েছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ ও সাবেক অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার বিশ্বাসসহ মোট ৮৪ জনকে।

তদন্ত চলাকালে এজাহারে নাম থাকা ছয়জনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কামরুল ইসলাম, এটি নিজাম উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, রাসেল মিয়া, সৈকত ইসলাম কামরুল, আব্দুল মুকিত মজুমদার এবং বিল্লাল ওরফে ভাতিজা বিল্লাল। বর্তমানে বিল্লাল জামিনে থাকলেও অন্যরা কারাগারে রয়েছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *