ঢাকা: বাংলাদেশে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ শব্দটাই এখন অমাবস্যার চাঁদের মতো মনে হয়!
বৈশ্বিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে গত বছরের তুলনায় আরও তিন ধাপ পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ স্বাধীনতার আরো অবক্ষয় ঘটেছে।
সূচকে এবারও বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিস্থিতি বেশ ‘গুরুতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০২৫ সাল সাংবাদিকদের জন্য ছিল এক অভাবনীয় ঝুঁকিপূর্ণ সময়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পতন আমরা দেখেছি।
তবে এখনো অনেক সাংবাদিক কারাগারে আছেন। তাঁদের বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে।
সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ওপর হয়রানি, নির্যাতন ও নিপীড়নের বহু ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এখনো সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার চলছে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে সম্প্রতি মেরেধরে গুরুতর আহত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের ওপর চলমান পদ্ধতিগত চাপ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্বজুড়ে তথ্যের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংস্থা- রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২৬ সালের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচক প্রকাশ করেছে।
প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে ৩৩ দশমিক ৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ১৫২তম।
২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪৯তম।
আরএসএফ বলছে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৯০ লাখ জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং মূলধারার গণমাধ্যমে তাদের প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত। তবে সংবাদ ও তথ্য প্রচারে ইন্টারনেটের ভূমিকা ক্রমশ বাড়ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে তারেক রহমান বলেছিলেন, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, বিএনপির অতীত সরকারের সময় যেরকম সাংবাদিকদের গুম করা হয়নি। সাংবাদিকদেরকে নির্যাতন করা হয়নি। সাংবাদিকদেরকে দেশ ছেড়ে যেতে হয়নি, বাধ্য হতে হয়নি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
উল্লেখ্য, আরএসএফ পাঁচটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিমাপ করে। এরমধ্যে রয়েছে—
১. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: গণমাধ্যমের ওপর সরকারের চাপ, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা।
২. আইনি কাঠামো: সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা, আইনের অপব্যবহার ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের নিশ্চয়তা।
৩. অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: মিডিয়া মালিকানা, সরকারি বা করপোরেট চাপ ও আর্থিক স্বাবলম্বিতা।
৪. সামাজিক প্রেক্ষাপট: সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সামাজিক চাপ, মতাদর্শিক বা ধর্মীয় বাধা।
৫. নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, হুমকি ও আক্রমণের ঝুঁকি।
