ঢাকা: কোন সুস্থ ব্যক্তি এটা বিশ্বাস করবেন
যে প্রফেসর আবুল বারকাত হত্যার সাথে জড়িত? তারপরেও হেনস্থার শিকার হয়েছেন তিনি।
জামিন পেতে তাঁকে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।
অধ্যাপক আবুল বারকাতকে ঘিরে ঘটনাগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মর্মপীড়াদায়ক।
বিভিন্ন জটিলতার অজুহাতে এতদিন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
একজন প্রবীণ শিক্ষক, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গণমামলায়, বিশেষ করে অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকায় তাঁর নাম সংযুক্ত করে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল।
রাজধানীর নিউমার্কেট থানার ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য কোন মামলায় গ্রেফতার না থাকায় তার কারামুক্তিতে কোন বাধা নেই বলে জানা গেছে।
এদিন আবুল বারকাতের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম। তিনি যেকোন শর্তে জামিনের প্রার্থনা করেন।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন করেন।
এর আগে গত ৭ জুন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। পরে ১৪ জুন তাঁকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন ১৫ জুন তার জামিন নামঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৭ জুন এই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ।
