ঢাকা: কথায় আছে ‘যাকে দেখিতে নারি তাঁর চরণ বাঁকা ‘ অর্থাৎ যাকে আমরা দেখতে পারিনা , তার চরণটাও বাঁকা মনে হয়!
আওয়ামী লীগকেও বিএনপি, জামাত সেই চোখেই দেখছে। এখন স্বপ্নের মধ্যেও যদি কেউ আওয়ামী লীগ বলে ফেলে, ১৯৭১ এর যুদ্ধের কথা বলে ফেলে- তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি যে স্বপ্নে বলেছেন, সেকথা কেউ শুনবে না। দেশটা এমন এক পর্যায়ে চলে গিয়েছে।
এবার পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করে কেক কাটা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মেজর মৌসুমী ও নিলুফার ইয়াসমিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের পর শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহবুব আলী মুয়াদ এই আদেশ দেন।
উল্লেখযোগ্য যে, মেজর মৌসুমী পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। নিলুফার ইয়াসমিন জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি।
জানা গিয়েছে, এই মামলায় ১১০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। হয়তো ১১০ জনও সেখানে ছিলো না।
দোষ তো কিছুই না। তারপরেও দোষ। ২০২৬ সালের ২৩ জুন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেক কেনায় অর্থায়নের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে মেজর মৌসুমীকে। খুব সাফল্যের কাজ করে ফেলেছে পুলিশ।
অথচ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্থ সুইস ব্যাংকে পাচার হয়েছে সেটা নিয়ে তদন্ত করার সময় পাচ্ছেনা।
দেশে জঙ্গীবাদের উত্থান কাদের অর্থায়নে হচ্ছে সেই বিষয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করছেনা। কালেমা পতাকা কে ওড়াচ্ছে সেটা জানে না।
দেশের আইনশৃঙ্খলার মায় পাটি নিয়ে পাটক্ষেতে গেছে সেটা নিয়েও কারো মাথাব্যথা নাই।
এই যে সারা দেশে উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর আদলে বিভিন্ন ধরনের পতাকা টাঙানো হয়েছে, সেগুলোর অর্থায়ন কারা করেছে—সেটি কি তদন্ত করে বের করা হয়েছে?
এই যে এক বছরের ব্যবধানে এনসিপির নেতাদের রাজকীয় জীবন যাপন, গাড়ি বাড়ি তাদের অর্থের উৎস কি তা কি আদালত জানতে চেয়েছে?
কিন্তু রাষ্ট্র যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, তখন এইসব প্রশ্ন তোলা অবান্তর। চিত্ত যদি দূর্বল হয় তখন কেককে বিস্ফোরকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী মনে হয়। নয় কী? বলেন?
মামলায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুজ্জামান মুক্তাকে এক নম্বর এবং মেজর মৌসুমীকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ মামলায় পরবর্তী আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
