ঢাকা: শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা শোকপ্রকাশ করেছেন।
তাঁর শোকবার্তা তুলে ধরা হয় ফেসবুকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড পেইজে।
শেখ হাসিনা লিখেছেন, “দেশবরেণ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ৯০ বছর বয়সে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।
বাংলাদেশের ‘পাপেট ম্যান’ নামে পরিচিত মুস্তাফা মনোয়ার শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। কর্মজীবনের শুরুতে শুধু শিক্ষকতায় থাকলেও টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন।
টেলিভিশনের মতো গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে কীর্তিমান এই শিল্পী পাপেট্রি, চিত্রকলা, ভিজ্যুয়াল আর্ট এবং শিশুতোষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছেন”।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, “তাঁর সৃজনশীল কাজ দেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শিশুদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং করবে বলেও আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে স্থায়ী প্রভাব ফেলে অমর হয়ে থাকবেন”।
শেষে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই কৃতি শিল্পীর সুচিকিৎসা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করতে পারেনি, যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার এবং ঘটনা হিসেবে নিন্দনীয়।
বাঙালি সংস্কৃতির বিখ্যাত এই প্রতিনিধির প্রতি সরকারের উপেক্ষা আবারও প্রমাণ করে, জাতির অগ্রদূতদের হেনস্থা উদযাপনই এই সরকারের নীতি।
এর আগেও ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার মব লেলিয়ে বাঙালি সংস্কৃতির স্মারক চিহ্নগুলোকে ভেঙে ফেলেছে। এই সরকারও সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে। একটি জাতির সাংস্কৃতিক প্রতীকসমূহ তার প্রতিবেশকে আগলে রাখে।
একে বিনাশ করতে পারলে জাতিকে উন্মূল করা সহজতর। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রের জাতিবিধ্বংসী কৌশলকে কার্যকর করতে দিয়ে সরকার জাতিপরিচয় মুছে দিতে তৎপর।
অত্যন্ত বৈরী এই পরিবেশে আমি এই কামনাই করি, শিল্পী মুস্তফা মনোয়ার শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার দ্যুতি ছড়িয়ে থাকবে বাংলার ঘরে ঘরে। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি”।
শোকবার্তাটি তিনি “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।আঁধার কেটে ভোর হোক, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক” বলে শেষ করেন।
