ঢাকা: হঠাৎ কি এমন হলো যে বিলাই আর বাঘ সব একঘাটে পানি খাওয়া শুরু করেছে?

যে ব্যক্তি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে গ্রেপ্তার করতে চাইতেন, সেই ব্যক্তি এখন শেখ হাসিনাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে চাইছেন।
কি বুঝলেন! ডিসেম্বর আসতে আসতে হয়তো মেলা খেলা দেখবেন! এমনও হতে পারে এরাই ফুলের তোড়া নিয়ে হাসিনাকে বরণ করবে।

ওরা তো প্রথমে বলল, শেখ হাসিনা আসার সাথে সাথে মেরে ফেলবে।

তারপর বলল, আসার সাথে সাথে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির কাষ্ঠে নিয়ে গিয়ে ফাঁসি দেবে।

তারপর বলল, বাংলাদেশে আসার সুযোগ নেই।

এখন বলে, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আসলে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

দুইদিন পর বলবে, শেখ হাসিনার সাথে অন্যায় হয়েছে আমরা ক্ষমা চাই। আমাদের জীবন ভিক্ষা দিন। (হাহাহা)

আসলে রাজনীতির নাটকে শেষ দৃশ্য না দেখা পর্যন্ত কাউকেই ভিলেন বা নায়ক ধরে নেওয়া ঠিক না!

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্য এখন ভাইরাল।

তিনি বলেছেন, দেশে ফিরে শেখ হাসিনা বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে সেখানে তাঁর প্রয়োজনীয় সব অধিকার নিশ্চিত করা হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা সবাই মেনে নেবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি কথাগুলো একদম হাসিমুখে বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘হাসিনা যদি বাংলাদেশে আসেন, উনি তো বলছেন ডিসেম্বরে আসবেন। আমি বহুবার বলেছি, তিনি যদি আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তিনি আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন। পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যা যা করা দরকার, তা করা হবে। তারপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা আমরা সবাই মেনে নেব।’

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে তো প্রত্যর্পণ করার কথা ছিল। তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার কথা ছিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। আমরা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ফেরত চাই। আমরা তাকে দেশে এনে আইনের আওতায় আনতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বিভিন্ন বৈঠক করছেন এবং সম্প্রতি সেখানে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে ভারতকে আন্তরিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘যাকে আমরা এনে বিচার করতে চাই, সেটা না করে তিনি ওখানে বসে এটা করছেন—এই ব্যাপারগুলোকে ভারতের আন্তরিকভাবে নিতে হবে যে বাংলাদেশের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কীরকম হবে, কীভাবে হবে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *