ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জোড়া ফুলকে পরাজিত করে ফুটেছে পদ্মফুল। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটলো।
আর বিজেপি জিততেই এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে ডিগবাজি। এবং দেখা যাচ্ছে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে ‘ডিগবাজি’র সংখ্যা!
যারা বিজেপিকে অপছন্দ করে, হয়তো ভোটটাও দেয়নি, তারাও বলছে ‘নাহ, আমরা তো কট্টর বিজেপি’! কী হাস্যকর ব্যাপার।
ওপারের রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে নেট জগতের আতশকাচে এমন বহু গুণীজনদের আগমন ঘটেছে যারা এমন দাবি করে বরং হাসির খোরাক হচ্ছেন, আর তুচ্ছ তাচ্ছিল্য পাচ্ছেন।
এমন আবহে চর্চায় কবীর সুমনের এক মন্তব্য। কবীর সুমন বরাবরই পল্টিবাজ হিসেবে বিখ্যাত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য তিনি করেন।
গত দেড় দশকে যে বঙ্গবাসী তৃণমূল আর সুমনকে সমার্থক বলে জেনেছে, সেই শিল্পীই কিনা বলছেন, “আমি তো তৃণমূলপন্থী নই!”
শিল্পীর এহেন আচমকা ‘ভোলবদলে’ বিস্মিত অনুরাগীরাও। অবাক লেখক তসলিমা নাসরিন।
সকলেই জানেন, কবীর সুমন এবং তসলিমা নাসরিন—এর সম্পর্ক বরাবরই আদায়-কাঁচকলায়।
কবীর সুমনকে সরাসরি ‘জিহাদি’ বলে কটাক্ষ করতেও পিছপা হননি তসলিমা। যা ঘিরে তুঙ্গে উঠেছিলো বিতর্ক।
এর আগে কবীর সুমনকে ‘হিপোক্রিট’ও বলেছেন। দুজনের তিক্ত সম্পর্কের প্রমাণ ফের মিলল লেখকের ফেসবুক পোস্টে।
বিজেপি জিততেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে কবীর সুমন বলেন, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর আগে আমি কোনও পার্টির সদস্যও ছিলাম না। আমার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই আমি পদত্যাগ করি।”
শুধু তাই নয়, সঙ্গীতশিল্পীর মত, “জনাদেশ কেন মমতার বিপক্ষে গেল, সেটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি মনে করি, একাধিক ভুল হয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেয়নি। যেমন চাকরি। চাকরির ক্ষেত্রটা ভয়ংকরভাবে মার খেয়েছে। মানুষ সেটা ভালো চোখে নেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করেছেন? উত্তর না। তিনি পারেননি।
আমি এবারও তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের কাজে খুশি হতে পারিনি। দলের বহু কথা ও আচরণে মানুষ ধাক্কা খেয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক ভালো কাজও করেছেন।”
সুমনের এহেন সাক্ষাৎকার দাবানল গতিতে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এবং শুরু হয় কটাক্ষ।
তোপ দাগতে পিছপা হলেন না লেখক তসলিমা নাসরিনও।
তসলিমা বলেন, “তিনিই তো বলেছিলেন আজ থেকে ৩০০ বছর পর মমতার নামে পুজোআচ্চা হবে, মন্দিরও হবে।” শুধু তাই নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে একটি গান বেঁধেছিলেন, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছিল।
২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করে একটি গান বেঁধেছিলেন। কবীর সুমন কেবল গানই বাঁধেননি, তিনি ‘মমতা’ নামে একটি নিজস্ব রাগ তৈরি করে তাতে বাংলা খেয়াল গেয়েছিলেন।
তিনি ‘মমতার জন্য’ নামে একটি বিশেষ গানও বেঁধেছিলেন। এত গান লেখার জন্য এবং গাওয়ার জন্য কি কেউ তাঁকে হাতে পায়ে ধরেছিল? মমতার নামে মন্দির হবে, এই ঘোষণা তিনি মাথায় একটা সাদা গোল টুপি পরে করেছিলেন। ওই টুপিটা পরার জন্য কে বা কারা তাঁর হাতে পায়ে ধরেছিল, জানতে পারি?
মজার তো! হাতে পায়ে ধরলেই কাজ হয়ে যায়! কেউ যদি হাতে পায়ে ধরে বলে তুই তো কমিউনিস্ট ছিলি, হাতে পায়ে ধরেছিল বলে তৃণমূল হয়েছিলি, এবার হাতে পায়ে ধরলে তুই তো ঠিক বিজেপি হয়ে যাবি, তাই না? তখন গোল টুপিটার কী হবে? ভাষণ দেওয়ার জন্য টুপিটা পরার তো আর দরকার হবে না”!
