ঢাকা: কন্টেন্ট ক্রিয়েটার তৌহিদ আফ্রিদির স্ত্রী তখন গর্ভবতী, তাছাড়া তাকে আওয়ামী দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

অবশেষে তিনি ছাড়া পেলেন। জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি কারামুক্ত হয়েছেন।

২৩ জুলাই তাঁকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত আরও পাঁচটি মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও সেসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

যদিও এইসব কতটুকু সত্য, কতটুকু মিথ্যা তা তো আমরা বিভিন্ন ভুয়া মামলা থেকে বুঝতেই পারছি।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর চলে যান আত্মগোপনে।

পরে ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে গ্রেপ্তার হন বরিশাল থেকে। এরপর থেকে প্রায় ১১ মাস ছিলেন কারাগারে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তা জানার কথা। কারাগারে থাকা অবস্থায় অন্যান্য মামলায় কেন তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।

রিমান্ড শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে বাড্ডা থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই মামলার তদন্ত শেষে তাঁর অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। এরপর ১৫ জুন ওয়ারী থানার প্রতারণার একটি মামলায় তাঁকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর আপিল বিভাগও সেই জামিন বহাল রাখেন।

এবং ২১ জুলাই ওয়ারী থানার প্রতারণা মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক হাজার টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

এরপর আফ্রিদির আইনজীবী জানান, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *