ঢাকা: জুলাই আন্দোলন তো ছিলো না, ছিলো জঙ্গী আন্দোলন। এবং ষড়যন্ত্র করে দেখানো হয়েছে জুলাই আন্দোলনে মারা গিয়েছে কত শত!
২০২৪ সালের ২০ জুলাই ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে রাস্তা পার হওয়ার সময় ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ ঘটনায় মোহাম্মদ মিনাকুল ইসলাম প্রাণ হারান।
আর ঐ একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এবং অভিযোগ করেন যে মিনাকুলকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাটিতে আওয়ামী লীগের তিনজন জ্যেষ্ঠ নেতাসহ মোট ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।
‘জুলাই শহীদ’ আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের ‘হত্যাকারী’ হিসেবে চিত্রিত করার যে বয়ান বা আখ্যান তৈরি করেছিল, তাতে মিনাকুলের এই ঘটনার পাশাপাশি আরও অনেক অনুরূপ ঘটনার উদাহরণ পাওয়া যায়।
অভিযোগ উঠেছে যে, এমন শত শত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদের মৃত্যুর সাথে ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক ছিল না; এর ফলে সরকারিভাবে স্বীকৃত ‘জুলাই শহীদ’-এর সংখ্যা যেমন অতিরঞ্জিত হয়েছে, তেমনি এর দায়ভার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তালিকায় এমন শত শত ব্যক্তির নাম রয়েছে যাদের মৃত্যুর সাথে কোটা-বিরোধী বিক্ষোভ কিংবা ৫ আগস্ট ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কারণ হয়ে ওঠা রাজনৈতিক অস্থিরতার কোনো যোগসূত্র ছিল না।
জুলাই অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তে চরম অসঙ্গতি ও গোলমালের তথ্য মিলেছে।
পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোনো কোনো মামলার বাদীরই হদিস পাওয়া যাচ্ছে না, কারো কারো মৃত্যু আবার দুই জায়গায় হয়েছে একই সময়ে।
আবার কোথাও খোদ ‘নিহত’ বা ‘আহত’ দাবি করা ব্যক্তিই জীবিত অবস্থায় বিদেশে অবস্থান করছেন।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু মামলায় নির্দিষ্ট তারিখে গুলিতে নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করা হলেও মাঠপর্যায়ের তদন্তে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যে সেই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে এসব সংবেদনশীল মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মিথ্যা মামলা করা হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে একের পর এক নজিরবিহীন অসঙ্গতির প্রমাণ পাচ্ছে পুলিশ।
আবার অনেক নিহত বিদেশে বহাল তবিয়তে আছেন। কাজ করছেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর হাতিরঝিলের উলন সড়ক এলাকায় আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ৪৬ বছর বয়সি মো. বাবু নিহত হয়েছেন, এমন অভিযোগ করে আদালতে মামলা হয়।
এর তদন্তের ভার পড়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশের ওপর।
এই মামলার এজাহারে বাদী হিসেবে স্বাক্ষর রয়েছে ‘নিহত’ বাবুর খালাতো ভাই পরিচয় দেওয়া ইসমাঈল নামে এক ব্যক্তির।
এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা, বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাসহ পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।
২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর আদালতে জমা দেওয়া এই মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজাহারে দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা অনুযায়ী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বরুরকান্দি গ্রামে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, বাবু নামে যার ‘নিহত’ হওয়ার কথা বলা হয়েছে, মামলা করা হয়েছে তিনি তো জীবিত। দিব্যি কাজকর্ম করছেন।
তার প্রকৃত নাম মো. শাকিল এবং তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।
এমনকি এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, মামলার বাদীর পরিচয় যাচাই করেও অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।এটাই হচ্ছে ঝুলাই!
