ঢাকা: ইউনূসের কিচেন ক্যাবিনেট সদস্য কারা ছিল? যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া দাসত্বের চুক্তি নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের নীরব ভূমিকা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় উভয়েই এই চুক্তির বিষয়ে জানত এবং তারাও ক্ষমতায় আসার জন্যে এই চুক্তিকে আগলে রেখেছে।
দেশের স্বার্থের আগেও সবার আগে আমেরিকার স্বার্থ। ইউনূস আমেরিকার দালাল হয়ে দেশের ক্ষমতা দখল করে দেশটাকে একটা খাদ বানিয়ে গেছেন।
বর্তমান বিশ্বের অফিসিয়াল ফাদার আমেরিকাকে কেউই নাখোশ করতে চায় না।
এইবার কিচেন ক্যাবিনেটের অভিযোগ শোনা গেলো আরো একজনের মুখে।
এই নিয়ে দুইজন (অন্যজন ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত সাহেব) উপদেষ্টা সরাসরি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ কথাটা বললেন। এর আগে আরো দুজন সাবেক উপদেষ্টা পরোক্ষভাবে কিচেন ক্যাবিনেটের কথা বলছেন (আসিফ নজরুল ও মাহফুজ আলম)।
ইউনুস জমানায় দেশ চালিয়েছে কিচেন ক্যাবিনেট।
কিচেন ক্যাবিনেট সরকারের কোনো সাংবিধানিক বা আনুষ্ঠানিক অংশ নয়, বরং নেতার ব্যক্তিগত পছন্দের কিছু মানুষের একটি ছোট বৃত্ত যারা পর্দার আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় এবং প্রভাব বিস্তার করে। মূলত তাদের সিদ্ধান্তেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
এটি এমন একটি ছায়া মন্ত্রীসভা যারা ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করেন, কিন্তু জনগণের কাছে বা সংসদের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকে না।
এমনকি জনগণ এই ব্যাপারে কোনো কথা জানে না যে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসছে এই কিচেন ক্যাবিনেট থেকে।
অর্থাৎ এর কোনো লাইসেন্স নেই।
তৌহিদ সাহেব জানাচ্ছেন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। এর আগে আরেক সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আক্তারও বলেছেন যে, তারা এটা ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। তাহলে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করলেন কারা?
সবাই তো এখন ধোয়া তুলসী সাজছে।
সোমবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তৌহিদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের ওই কিচেন ক্যাবিনেটই দেশ চালাত। আমার নিজের দপ্তরের উপরও একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল।
স্বাধীনভাবে আমি কাজ করতে পারতাম না। সেই কারণেই আমি তিনবার পদত্যাগেরও সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি।”
তাঁর অভিযোগ, ৭ সদস্যের ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়ে সরকার চালাতেন ইউনুস। তারাই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত। এই সাত সদস্য কে?
সোমবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তৌহিদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের ওই কিচেন ক্যাবিনেটই দেশ চালাত। আমার নিজের দপ্তরের উপরও একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল।
স্বাধীনভাবে আমি কাজ করতে পারতাম না। সেই কারণেই আমি তিনবার পদত্যাগেরও সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু তা গৃহীত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যাশার এক বড় অংশ পূরণ হয়নি। কোনও কারণে একবার আমাকে সেই কিচেন ক্যাবিনেটের বৈঠকে যেতে হয়েছিল। পরে আমি জানতে পারি, প্রতি সপ্তাহেই বৈঠকটি বসত। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছিল, সে বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রক অন্ধকারে ছিল। বিষয়টিতে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
তৌহিদের মতে, আওয়ামি লীগ রাজনীতির ময়দান থেকে এখনও ছিটকে যায়নি। তারা আবার ফিরে আসতে পারে। আগামী নির্বাচনও তারা অংশ নেবে। তবে বর্তমান বিএনপি সরকারকে নিয়ে এখনই মূল্যায়ন করতে নারাজ প্রাক্তন বিদেশ উপদেষ্টা।
তাঁর কথায়, “আমেরিকা-চিন-ভারতকে সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।”
