চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরে থানা-ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অনেক আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র-গুলি ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

জুলাই জঙ্গী আন্দোলনে লুট হওয়া সেই অস্ত্র কিন্তু এখনো উদ্ধার হয়নি। হবেও না। কারণ বিএনপি জামাতের মিলমিশ আছে।

জানা গেছে, খুনি-ধর্ষকরা এখনো ফেরার, লুট হওয়া ১১৪৩ রাউন্ড গুলিও খোঁজ পাওয়া যায়নি, কার স্বার্থে?

দুই বছর হতে চলল, শেরপুর জেলা কারাগারের সেই ভয়াবহ হামলার ঘটনার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যে দিনটিতে দেশ দেখল কীভাবে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র কারাগারে হামলা চালিয়ে ৫১৮ জন কয়েদিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এর মধ্যে খুনি, ধর্ষক, মাদক কারবারি, জঙ্গি সবার উপস্থিতি ছিল।

এখনো পলাতক আছে ৩৪৬ জন। আর চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য হলো, লুট হওয়া ১ হাজার ১৭৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৩২ রাউন্ড। বাকি ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি এখনো বেহাত।

আর এই ধরনের গুলি নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্রে ব্যবহার হয়, এবং এগুলো কিনতে বা ব্যবহার করতে হয় প্রশিক্ষিত কাউকে, যার সঙ্গে কোনো না কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগ আছে।

৫ আগস্টের হামলার পেছনে যে ইসলামিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছিল, গোয়েন্দা রিপোর্ট ও মাঠপর্যায়ের তথ্য তা বারবার নিশ্চিত করেছে।

তারপরেও এখনো দেশের পরিস্থিতি সুশৃঙ্খল হয়নি। বিএনপি জামাতের উপর কথা বলতে ভয় পায়।

জামায়াত-শিবিরের ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর স্লিপার সেল পর্যন্ত, সবাই মিলে সে দিন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেছে। আর এই লুট করা গুলি এখন তাদের কাছেই মজুত আছে, ভবিষ্যতের বড় কোনো নাশকতার অপেক্ষায়।

বর্তমান বিএনপির নেতৃত্বে যে সরকার চলছে, তার প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী।

জুলাই জঙ্গি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপদেষ্টা হয়ে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে কী বলেছিলেন আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই!?

বলেছিলেন, ৫ আগস্ট সরকার পতন না হলে তারা সশস্ত্র সংগ্রামের ঘোষণা দিত। তাদের সেই প্রস্তুতি ছিল।

চিন্তা করে দেখুন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে রানিং সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করতে গেলে কত অস্ত্র প্রয়োজন। তারমানে ৫ আগস্টের আগে তাদের কাছে তত পরিমাণ অস্ত্র ছিল। সেই অস্ত্র গুলো কোথায়? বিমানবন্দরে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পরেও কেন ছেড়ে দেয়া হলো আসিফকে?

মাদ্রাসাগুলোতে, জামাতি মসজিদ গুলোতে এবং বিভিন্ন সংগঠনের নাম দিয়ে বাংলাদেশে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

উগ্রবাদী সংগঠন ফাতাহ কামব্যাটের ৬ জঙ্গিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে এনসিপির দুইজন আছে।

এগুলো তো প্রমাণ চোখের সামনে!?

যারা এনসিপির সাথে নূন্যতম জড়িত তাদের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করলে সকল অস্ত্র বের হয়ে আসবে। কিন্তু কে করবে??

দুই একটা অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, জনগণও দেখছে, নাহ! হচ্ছে তো!

দুই বছর পর চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া দুটি পিস্তল উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার আমবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্রাজিলের তৈরি ‘টরাস’ ব্র্যান্ডের দুটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে আমবাগান রেলওয়ে কলোনির পেছনের একটি বস্তিতে ডিবি পুলিশের উত্তর বিভাগের একটি দল এ অভিযান চালায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমবাগান রেলওয়ে কলোনির পেছনের বস্তি এলাকায় অস্ত্র কেনাবেচার তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ব্রাজিলের তৈরি ‘টরাস’ ব্র্যান্ডের দুটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

ক্রস-চেক ও রেকর্ডপত্র যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, উদ্ধার করা পিস্তল দুটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের অংশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *