ঢাকা: ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। মূলত ‘শেখ হাসিনাকে কবে হস্তান্তর করা হবে’ এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথাগুলো বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ভারত সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এটি বলেছে যে এর একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি বিষয় জড়িত এবং এটি একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
“সে কারণে এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। যেহেতু আদালত যুক্ত রয়েছে, তাই কেউ এ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে না।”
অর্থাৎ ভারত শেখ হাসিনা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। দীনেশের সঙ্গে সহমত পোষণ করলেও বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মনে করেন, এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও থাকা প্রয়োজন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
রবিবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “এর সঙ্গে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া জড়িত, তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছাও জরুরি।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আশা করছে যে ভারত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অবশ্যই।”
তিনি বলেন, “ওই চুক্তির আওতায় অভিযুক্তকে (হাসিনাকে) ফিরিয়ে আনা সম্ভব এবং সেই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”
তবে হাসিনার ক্ষেত্রে এই চুক্তি আদৌ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়ে কোনো কোনো আইন বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান হাসিনা। তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে গত দু’বছরে বার বার সরব হয়েছে ঢাকা। শুধু তা-ই নয়, হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ।
সেই প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী স্পষ্ট জানান, হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে কোনও উপায় ছিল না। অবতরণের অনুমতি না-দিলে সম্পূর্ণ অন্য রকম এক পরিস্থিতি তৈরি হত।
