ঢাকা: এই দেশের কর্মকাণ্ড দেখলে হাসতে গেলেও হাসি পায়।
ভারত বয়কট সফল! ১৯ রেল কোচ ভারত থেকে কে আনছে? মুখে বয়কট ভারত, অন্তরে ভারত ছাড়া হাঁটু কাঁপে! এই কোচে কি রাজাকার ভ্রমণ করবে না?
সেটাই তো বলি, প্রতিবেশি ভারত ছাড়া বাংলাদেশ অচল। ভারতকে এত গালিগালাজ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে মন জয় করা এইসব রাজনীতির মাঠেই সফল, বাস্তবে না। বললে আবার সাথে সাথে বলে, টাকা দিয়েই তো কিনছি।
স্লোগান দিচ্ছেন -“ভারতের পণ্য বয়কট করো” সকালে ঘুম থেকে উঠে পেঁয়াজটা ভারতের, দুপুরে কাঁচামরিচটা ভারতের, রাতে যে রেলগাড়িতে চড়ে বাড়ি যাবেন ওই কোচটাও ভারতের!
মানেটা খুব পরিষ্কার ! যে রেললাইনে দাঁড়িয়ে বুক ফুলিয়ে ভারত বিরোধী ভাষণ দেন, ওই রেলের চাকাটাও ভারতের কারখানায় বানানো।
মিলেমিশে থাকলে দেশটা শান্তি থাকে, সেটা জামাত শিবির দেশদ্রোহীর গোষ্ঠী চায় না।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) তৈরি করেছে ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক।
বুধবার রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোল আউট করার কথা।
ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
পিআইবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীদের চাহিদা ও পরিচালন ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করে এসব কোচে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রথম রেকে রয়েছে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং দুইটি পাওয়ার কার।
বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এসব কোচে রয়েছে উন্নতমানের রিক্লাইনিং চেয়ার, স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট।
যাত্রীদের আরামের জন্য চেয়ারে একাধিক অবস্থানে হেলানোর সুবিধাও রাখা হয়েছে।
কোচগুলোতে যাত্রী নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, যাত্রী অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
এতটাই সুবিধা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোচের ছাদ কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে পারে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ছাদে ওঠার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এটি করা হয়েছে।
শুধু তাই না, ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী দুর্ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে ‘ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কোচের বডি শেল কাঠামো নতুনভাবে নকশা করা হয়েছে।
এলএইচবি কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।
ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচে ৭৫০ ভোল্ট ব্যবহার হয়, সেখানে বাংলাদেশের জন্য তৈরি এইসব কোচে ৪১৫ ভোল্ট অপারেশন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
