ঢাকা: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর গত শনিবার রাজ্য সরকারের দায়িত্ব নেয় বিজেপি। তৃণমূলকে পরাজিত করে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার এই সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সংক্রান্ত।
ভারত তাদের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কাঁটাতার দিতেই পারে, বা আরো ব্যবস্থা নিতেই পারে। তাতে তো বাংলাদেশের জ্বলে ওঠার কোনো অবকাশ নেই।
কিন্তু তারপরেও জামাতের গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে অনুপ্রবেশের ঘটনা যথেষ্ট ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে, বিজেপির দাবি ছিলো এবং স্বচক্ষেও দেখা গিয়েছে। জঙ্গীর নিরাপদ শেল্টার ছিলো পশ্চিমবঙ্গ।
সেই শেল্টার এখন আর থাকবে না, তাই জঙ্গী জামাতের গোষ্ঠী সহ্য করতে পারছে না।
কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ‘ভয় দেখানো যাবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা।
বাংলাদেশকে ভয় দেখানোর কী আছে এতে? আপনারা ভয় পাচ্ছেন কেন? আশ্চর্য!
এদিকে, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে, এই বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে ‘বিভেদের দেওয়াল’ তৈরি করছে ভারত, যে কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই উদ্যোগে নজর রাখছে তারা।
সীমান্তে কাঁটাতার মানে বিভেদ? এদের মাথায় আক্কেল বুদ্ধি বলে কোনো জিনিস তো কোনোদিনই নেই, তাই মুখে যা আসে তাই বলে!
দুটো দেশ ভিন্ন, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটা অঙ্গরাজ্য। আলাদা দেশ নয়। পশ্চিমবঙ্গকে কি বাংলাদেশের বলে ভেবেই নিয়েছে নাকি রাজাকারের গোষ্ঠী? কথায় বার্তায় তো তাই মনে হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য যে, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যমতে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাথে বাংলাদেশের দুই হাজার ২১৬ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে।
আর সীমান্তের নিরাপত্তা ভারতের অগ্রাধিকার- সাফ মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের অগ্রাধিকার। এ সিদ্ধান্তকে আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি।’
