ঢাকা: মানুষ কেমন হতে হয়, মানবতা কতটা হতে হয়- মানুষকে মারার নয়, বাঁচানোর তাগিদ কতটা হতে হয় তা অতি অবশ্যই ভারতীয়দের কাছে শিখতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে, গোটা ভারতজুড়ে এবং মানবতাবাদীরা প্রশংসায় ভাসছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছরের।

৩৩,০০০ ফুট ওপরে দুবাই থেকে তেল আভিভের পথে উড়ছিল Flydubai-এর FZ1073। বিমানের ককপিটে ছিলেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর।

হঠাৎ ককপিটের ভিতরেই সহ-পাইলটের হাতে ছুরি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত হন তিনি। কিন্তু রক্তাক্ত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি।

তাঁর প্রতিরোধের মধ্যেই কেবিন ক্রু, যাত্রী ও অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এদিকে বিমানটি মাত্র কয়েক দশ সেকেন্ডে প্রায় ১৪,৩০০ ফুট উচ্চতা হারাতে শুরু করে।

শেষ পর্যন্ত বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে আসে এবং FZ1073-কে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

বিমানে থাকা সবাই একদম নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের কোনো ক্ষতি হতে দেননি মচ্ছর। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে।

নিজের প্রাণের পরোয়া না করেই শতাধিক যাত্রীকে রক্ষা করে এখন বাস্তবের হিরো ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর !

নিজে আঘাত সহ্য করেও , রক্তাক্ত অবস্থায় শতাধিক যাত্রীকে নিয়ে সুরক্ষিতভাবে বিমান অবতরণ করান।

আহত পাইলটের সুস্থতা কামনায় এখন ভারতের বড় বড় মন্দিরগুলোতে পুজো দেয়া হচ্ছে। জপ করা হচ্ছে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র!

ভয়াবহ এবং শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনাটি ঘটে গিয়েছিলো নিমিষেই।

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানটিকে মাঝ আকাশে হাইজ্যাক করে ধ্বংস করার প্ল্যান ছিল কো-পাইলটের , আকাশেই তিনি পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন , তবে ভারতীয় পাইলট নিজের প্রাণের কোনো পরোয়া না করে একা হাতে লড়েন ওই আততায়ী পাইলটের সঙ্গে।

বুদ্ধিমত্তা দেখিয়ে খুলে দেন ককপিটের দরজা ! এরপর বিমানের ক্রু ও এক যাত্রী লড়াই করে ওই আততায়ীকে ধরে ফেলে !

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে তাঁর সাহসের প্রশংসা করে বলেন, গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত প্রতিরোধ করেছিলেন এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যাতে যাত্রী ও ক্রুরা হামলাকারীকে কাবু করতে পারেন। তাঁর ভাষায়, স্মিত ১৭৪ জনের জীবন বাঁচিয়েছেন।

একজন ভারতীয় পাইলটের সাহসের গল্প – যা হয়তো বহু মানুষের কাছে সারা জীবন মনে থাকবে।

ক্যাপ্টেন মচ্ছরের এই সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জানান, গুরুতর বিপদের মুখেও অসীম সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন ক্যাপ্টেন মচ্ছর। তাঁর এই বীরত্বে শতাধিক মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পাশাপাশি একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর জন্য ভারত গর্বিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন তিনি।

জানা গিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছরের স্ত্রী ও বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাঁদের সবরকম সাহায্য করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *