ঢাকা: ঘাড় মোটা, গোয়ার্তুমি করে কী দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে থাকা যায়? নাকি ঐ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হবার যোগ্য? যিনি জনগণের ভালো কিসে হবে সেটাই জানেন না।
তারেক রহমান বরাবর ভীষণ মাথামোটা ব্যক্তি। আসলে আমরা বলছি না এই কথা, বলছে জনগণ। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অনেক কিছু সহ্য করে, অনেক বাধা পেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা থাকতে হয়। তারেক রহমানের মধ্যে কোন গুণটা আছে?
নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। শনিবার ভারত মণ্ডপমে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ভারতে তো রাজনীতিবিদদের চাঁদের হাট বসেছে।
মোদী জানান, ব্রিকসের সভাপতিত্বে ভারত মানুষের কল্যাণ ও মানবিকতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, ‘ভারতে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্ব মানুষকেন্দ্রিক এবং মানবিকতাকে প্রথমে রাখার নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব আমাদের অগ্রাধিকার। এই অগ্রাধিকারগুলির সঙ্গে আমরা ব্রিকসের সভাপতিত্বকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’
বিশ্বের তাবড় তাবড় নেতারা এখন ভারতে, আর তারেক রহমান দেশে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন।
দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান করে, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সুন্দর সুযোগ পেয়েছিলেন তারেক রহমান। এসব নেতার সাথে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য অনেক সুখবর আনতে পারতেন তিনি। কিন্তু তিনি সেই পথে গেলেন না!
এত তাল বাহানা! এত গোয়ার্তুমি করে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়া যায়?
তারেক ভারত সফর না করে বিশেষ করে ব্রিকস ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোকে আমেরিকার ভরসায় পাকিস্তান, তুরস্ক ও জামাতিদের বুদ্ধিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অপমান করেছেন।
এর ফল কী খুব ভালো হবে?
এখন দেখার বিষয় তারেক রহমান আমেরিকার থেকে বিনা প্রয়োজনে একের পর এক বোয়িং কিনে, বেশী দামে গম-গ্যাস-তেল-তুলা-শুয়োরের মাংস কিনে কতদিন আমেরিকাকে খুশী রাখতে পারে!
আর এটাও দেখার বিষয় গ্যাস-বিদ্যুৎহীন, উচ্চমূল্যের বাজারে অনিরাপদ বাংলাদেশের জনগণ তা কতদিন সহ্য করতে পারে।
ইতিমধ্যেই তো বিদ্যুৎ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে হয় অবস্থা ভারত থেকে!
উল্লেখযোগ্য যে, বিমসটেক সভাপতি হিসেবে তারেক রহমান এবার পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী মহাপরাক্রমশালী জোট ব্রিকস(BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ব্রিকস সভাপতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে। কিন্তু সেই আমন্ত্রণের মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন শুধুমাত্র দূরদর্শিতা ও অজ্ঞতার কারণে।
সুযোগ বারবার আসে না। আগামিতে ব্রিকস প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এমন অবস্থায় পরবর্তীতে তারেক রহমান আর এমন আমন্ত্রণ পাবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এসব জায়গায় সব দেশের পক্ষে দাওয়াত পাওয়া যায় না।
তারেক রহমান যে কোনো বিষয়কে এক দৃষ্টিতে দেখেন। রাজনীতিবিদদের যেমন ফ্লেক্সিবল হতে হয়, সেটা তাঁর নেই।
ভারত বিদ্বেষ আর একরোখা শেখ হাসিনা বিরোধিতায় আক্রান্ত হয়ে একরোখা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আচ্ছন্ন হয়ে তিনি যা করলেন, তা বাংলাদেশের কূটনীতি ও জাতীয় স্বার্থের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে—এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
আর বিএনপি ও জামায়াতের এসব পাপের খেসারত দিচ্ছে বাংলাদেশ।
সরাসরি বললে, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দিয়ে তারেক রহমানের বিএনপি ও জামায়াত সরকার আমেরিকা ও পাকিস্তানকে খুশি করতে গিয়ে চীন , ভারত ও রাশিয়াকে নিজের শত্রু বানিয়ে নিয়েছে। তারেক রহমানের অদূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেবে।
একটি দেশ, দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ দেখেন। কিন্তু তারেক রহমান দেখলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির স্বার্থ।
