ঢাকা: টলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তথা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শোকের ছায়া পড়েছে। প্রয়াত হয়েছেন পরিচালক অনীক দত্ত।
বাংলাদেশেও তাঁর অসংখ্য ভক্ত। তাঁরা খুবই অবাক হয়েছেন অনীক দত্তের মৃত্যুর খবরে।
পরিচালক হিসেবে টলিউডকে সমৃদ্ধ করেছেন অনীক। তাঁর পরিচালিত ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘অপরাজিত’র মতো সিনেমাগুলি দর্শকমনকে নাড়া দিয়েছিল।
আচমকা এমন একটা মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে প্রশ্ন। মৃত্যুর কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা৷
বুধবার নিজের বাড়ির ছ’তলার ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
কী করে ছাদ থেকে পড়ে গেলেন এভাবে? এটা কি কেবল দুর্ঘটনা, না কি অন্য কিছু, এখনও স্পষ্ট নয়।
এই দুপুরে তিনি ছাদে উঠেছিলেন কেন, তাও জানা যায়নি। গড়িয়াহাট থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
শোকপ্রকাশ করেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লেখেন:
“অনীক দত্তের মৃত্যুর খবর শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। কী অসাধারণ নির্মাতা ছিলেন তিনি! বয়স তো খুব বেশি হয়নি। সাহসী ছিলেন খুব।
কবে কোন টিভি ইন্টারভিউতে নাকি আমার কথা বলেছিলেন, তসলিমাকে তাড়ানো উচিত হয়নি, এরকম কিছু। এই সামান্য কথাই বা কলকাতার নামী দামী লোকেরা কে উচ্চারণ করে!
অনীক দত্তের সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল না। কিন্তু অপরাজিত দেখার পর শতবার নমস্কার করেছি”!
তাঁর মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তসলিমা নাসরিন।
তিনি লেখেন, “ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু! anatomy of a fall সিনেমাটার কথা খুব মনে পড়ছে। কেউ ধাক্কা দিল? নাকি নিজেই পড়বেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? নাকি বুঝতে পারেননি, অসাবধানতায় ঘটে গেছে? মৃত্যুটা ভয়ংকর! প্রতিভাবান মানুষ মরে গেলে, আমি তাকে চিনি বা না চিনি, কষ্ট হয়”।
পরিচালকের মৃত্যুতে শোকাহত অভিনেতা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ৷ রুদ্রনীল বলেন, “অনীকদা এমন একজন মানুষ যাঁর সঙ্গে তর্ক করে শান্তি পাওয়া যেত৷ অনীকদা অনীকদা-ই। অপূরণীয় ক্ষতি, যাঁরা বন্ধু তাঁদের, পরিবারের মানুষদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল৷ এবং যাঁরা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত তাঁদেরও ক্ষতি৷”
রুদ্রনীল আরও বলেন, “অনীকদা নিজস্বতায় বাঁচতেন৷ বিজ্ঞাপনে ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি৷ অন্য ধারায় নিয়ে গিয়েছিলেন বিজ্ঞাপনকে৷ বিজ্ঞাপনের দুনিয়া থেকে যখন সিনেমার জগতে এলেন, তখনও ভূতের ভবিষ্যৎ, অপরাজিত একের পর এক অসাধারণ কাজ৷ ভবিষ্যতের ভূত ছবিতে অনীকদা’র সঙ্গে আমার কাজ করার কথা হয়েছিল৷ আমাকে ফোন করে অদ্ভুত কথা বলেছিলেন৷ এই রুদ্র আমাকে চিনতে পারছ, একসঙ্গে কাজ করতাম আমরা৷ এটাই অনীকদা৷ আমার মনে হয় অনীকদা নিজে একজন অপরাজিত৷”
রুদ্রনীল বলেন, “কখনও মনে হয়নি অবসাদে ভুগছিলেন৷ মাস দেড় দুই আগে একটা প্রিমিয়ারে দেখা হয়েছিল অনীকদার সঙ্গে, বললাম, অনীকদা তোমার শরীরটা কেমন লাগছে, বললেন, নারে, শরীরটা খুব একটা জুতসই মনে হচ্ছে না বুঝলি? শরীর খারাপ থাকায় খুব অল্প সময়ের জন্যই এসেছিলেন৷”
