ঢাকা: শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে সূত্রের খবর।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একাধিক প্রভাবশালী সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে দেশে ফেরার বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী মহলগুলোর’ মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে।

জানতে পারা গিয়েছে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং তাঁর সম্ভাব্য অবস্থান বা মর্যাদার বিষয়ে একটি রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আর এরই মধ্যে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের চোখে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ‘সমঝোতা’র বিষয়টিও এখন কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার ক্ষেত্রে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে—বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে—এই ধারণাটি জোরালো হচ্ছে যে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতা ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়।

তাই শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের আগে মতপার্থক্যের বিষয়টা কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতেই দীনেশ ত্রিবেদী মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নয়াদিল্লিতে এই অনির্ধারিত ও হঠাৎ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে ঢাকার বর্তমান অবস্থান নয়াদিল্লির কাছে তুলে ধরতেই এই সফর।

সোমবার রাতে ঢাকা থেকে দিল্লি পৌঁছে মঙ্গলবার দুপুরে মোদির সাথে বৈঠক করেন তিনি। আগামী বৃহস্পতিবার তাঁর ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে।

এবং নরেন্দ্র মোদীর পাশাপাশি ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়।

জেনারেল ধীরাজ শেঠ চলতি বছরের ৩০ জুন ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এই দুই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চলমান যোগাযোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *