ঢাকা: ভারতের আসামের শিবসাগরের বন্যা এর আগে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সমস্ত অর্জন। মানুষকে সর্বস্বান্ত করেছে।

আসামের শিবসাগর জেলার নাজিরা বিধানসভা কেন্দ্রের কমলছাপরি গ্রামে ভয়াবহ বন্যার খবর দেখেছে সারা বিশ্ব। দিখৌ নদীর পানি ভাসিয়ে দিয়েছে গোটা গ্রাম।

নাগাল্যান্ডের দিক থেকে যাওয়া দিখৌ নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেখা‌ যায় গোটা গ্রামটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

বহু পরিবার তাঁদের ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র, গবাদি পশু এবং জীবিকা হারিয়েছেন।

আসামে আবারও বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে; আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ASDMA) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এই বন্যায় সাতটি জেলার ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ASDMA-র সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামের গোয়ালপাড়া, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, নগাঁও, মরিগাঁও, পশ্চিম কার্বি আংলং এবং কাছাড় জেলার ১৫৫টি গ্রামের মোট ২৫,০৮৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যার জন্য বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য কর্তৃপক্ষ ১৩টি ত্রাণশিবির খুলেছে।

জানা গিয়েছে, পশ্চিম কার্বি আংলংয়ে সাম্প্রতিক বন্যায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে; এর ফলে এই বছর ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৮-এ দাঁড়িয়েছে।

কৃষি এলাকাগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং প্রায় ৬,৪৭৭.৩১ হেক্টর ফসলি জমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বিভিন্ন নদীর পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এএসডিএমএ (ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, নুমালিগড়ে ধানসিঁড়ি এবং মাটিজুরিতে কাটখাল নদী বর্তমানে তাদের বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলাকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *