ঢাকা: উদার মনের মানুষ সব জায়গাতেই প্রশংসিত হন। আর সেটা যদি হন তসলিমা নাসরিন তাহলে তো অবশ্যই। মূলত মৌলবাদ, সন্ত্রাস, নারী অধিকারের বিষয়ে কথা বলার অধিকার সকলেরই থাকা উচিৎ।
কড়া নিরাপত্তার চাদরে ভারতের কলকাতায় আছেন তসলিমা নাসরিন। সেখানে গেছেন তিনি ৩১ জুলাই দুপুরেই।
রবীন্দ্র সদনে শনিবার উপস্থিত ছিলেন মহামান্য ব্যক্তিরা। মন্ত্রীরাও ছিলেন।
এদিন, তসলিমার বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল নির্বাসনের যন্ত্রণার কথা। ছিল কলকাতায় ঘর হারানোর কষ্টের কাহিনি।
কলকাতায় ফিরতে পেরে আপ্লুত লেখক তসলিমা নাসরিনের কণ্ঠে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রতি প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা ছিলো।
তাঁর জন্য পশ্চিমবঙ্গে দরজা খোলায় ধন্যবাদ জানান সরকারকে। তসলিমার কথায়, ‘‘ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল। ইতিহাস মনে রাখবে কারা দরজা খুলেছিল।’’
রবীন্দ্র সদনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্যেই তসলিমার কলকাতায় ফেরা।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাঁকে সংবর্ধনা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা।
সংক্ষিপ্ত ভাষণে শুভেন্দু আমাদের দেশের লেখককে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। আপনি যত বার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন।’’
তসলিমার অনুষ্ঠানে বেশি সময় থাকতে পারেননি শুভেন্দু। তবে যতটুকু দেখেছেন মূল কথাগুলো, তথা সে রাজ্যের কী পরিবর্তন হয়েছে তা বলেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সংবর্ধনা নিয়ে তসলিমা বলেন, ‘‘ওঁর এই উদারতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এটা আমার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।’’
কলকাতায় ফিরে তসলিমার বার্তা, ‘‘নির্বাসিত মানুষের ক্যালেন্ডারে বছর শুধু সময় নয়, প্রতিটি বছর একটি বন্ধ দরজা। প্রতি মাস অপেক্ষার। প্রতিটি দিন নিজের ঠিকানা হারানোর দুঃখের। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে আমি শুধু একটি শহরে ফিরে আসিনি। ফিরে এসেছি একটি অধ্যায়ের কাছে।’’
কলকাতা বিমানবন্দরে পা দেওয়া থেকেই তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে ছিল পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা। যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি না হয়। কড়া নজর ছিলো।
সেই নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার জন্য শুভেন্দুকে ধন্যবাদ জানান তসলিমা। একই সঙ্গে দুঃখ করে এ-ও বলেন, ‘‘একজন লেখককে তাঁর ভাষার শহরে আসতে পুলিশের পাহারার প্রয়োজন হওয়াটাই আমাদের কাছে বেদনাদায়ক সত্য। আমি এমন একটা দিনের স্বপ্ন দেখি, যে দিন কোনও লেখককে পুলিশের পাহারায় চলতে হবে না। ভিন্ন মত পোষণের জন্য কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না।’
তসলিমা জানালেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরতে পারলেন তিনি। বললেন, “আজ আমি কলকাতায় ফিরে এসেছি, এই একটি বাক্য উচ্চারণ করতে ১৯ বছর লেগে গেল। প্রত্যেক দিন ঠিকানা হারানোর যন্ত্রণা। অনুভব করেছি আমি।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বাংলায় সকলের কথা বলার অধিকার রয়েছে। যতবার ইচ্ছা বাংলায় আসবেন। নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশমন্ত্রীর। বন্ধনমুক্ত বাংলায় সকলকে স্বাগত, ধমক চমক এখন অতীত। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবস্থার যা পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আপনি দেখেছেন। শুধু মুখের পরিবর্তন হয়নি, ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। গতকাল বঙ্গভূমিতে পদার্পণ করেছেন তসলিমা নাসরিন। এটার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত যে নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, বাক স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত। এখানে কোনও ধমক, চমক, দেখে নেব, আটকে দেব-এসব জিনিস অতীত হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে আপনি স্বাগত। পশ্চিমবঙ্গে যে ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, তা নিশ্চিত ভাবে আপনার অভিজ্ঞতায় আপনি দেখেছেন। একবার নয়, যখনই মনবে করবেন, বার বার আসবেন। সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।”
এরপর বক্তৃতা করতে ওঠেন তসলিমা। তিনি বলেন, “আজ আমি কলকাতায় ফিরে এসেছি। এই একটি বাক্য উচ্চারণ করতে প্রায় ১৯ বছর লেগেছে। নির্বাসিত মানুষের ক্যালেন্ডারে বছর শুধু সময় নয়, প্রতিটি বছর একটি বন্ধ দরজা, প্রতিটি মাস অপেক্ষা, প্রতিটি দিন নিজের ঠিকানা হারানোর দুঃখ। আজ সেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে আমি শুধু একটি শহরে ফিরে আসিনি, আমার হারিয়ে যাওয়া জীবনের একটি অধ্যায়ের কাছে ফিরে এসেছি। আজ আপনারা যে ভালবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য গভীর ভাবে কৃতজ্ঞ আমি। আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সেক্যুলার মিশনের চেয়ারম্যান ওসমান মল্লিক। প্রায় অসম্ভব বলে মনে হওয়া আমার ফেরার বন্ধ দরজায় তিনিই প্রথম সাহস করে কড়া নেড়েছিলেন। তাঁকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমাকে সম্বর্ধনা দিয়েছেন। তাঁর এই উদারতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এ আসলে আমার জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। আমি বিস্মিত, মুগ্ধ, অভিভূত।”
তসলিমা বলেন, “আজ ১ অগাস্ট। অগাস্ট আমার জন্মের মাস, অগাস্ট আমার নির্বাসনের মাস, আজ থেকে অগাস্ট আমার প্রত্যাবর্তনের মাসও। ১৯৯৪ সালের ৮ অগাস্ট আমাকে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল তখনকার সরকার। রাতের অন্ধকারে স্বদেশের দরজা আমার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার পর একের পর এক সরকার এসেছে, কিন্তু ওই দরজা আর খোলেনি। আর মাত্র সাত দিন পর আমার নির্বাসনের ৩২ বছর পূর্ণ হবে। স্বদেশের বাইরে কাটানো সময় এরই মধ্যে স্বদেশে কাটানো সময়কে অতিক্রম করেছে। রাষ্ট্র আমাকে দেশ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমার ভিতর থেকে দেশকে সরাতে পারেনি।
বাংলা ভাষাই আমার বহনযোগ্য স্বদেশ, যে স্বদেশ আমি সঙ্গে করে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে বেরিয়েছি। এক বাংলায় আমার জন্ম, আর এক বাংলায় হারিয়ে যাওয়া ঘর খুঁজে পেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত একজন বাঙালি লেখকের জন্য দুই বাংলার কোথাও একটি ছোট্ট ঘরও রইল না। ইউরোপ আমাকে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং আশ্রয় দিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ।
কিন্তু নাগরিকত্ব এবং আপনত্ব এক জিনিস নয়। নিরাপদ বাড়ি পাওয়া যায়, ঘর তৈরি হয় ভাষা, স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের ভালবাসায়। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আজকের নয়। সাতের দশকে ময়মনসিংহে বসে কলকাতার সাহিত্য পড়েছি, গান শুনেছি, রেডিওয় নাটক শুনেছি। বাস্তবে দেখার আগেই বই, সুর আর মানুষের কণ্ঠের ভিতর আবিষ্কার করেছিলাম কলকাতাকে। ১৯৭৮ সালের সেঁজুতি নামের একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ডাকযোগে কবিতা আসত।
কাঁটাতারের ওপার থেকে খামের ভিতর উড়ে আসত শব্দ। আমি সেই কবিতা ছাপাতাম। পশ্চিমবঙ্গের লিটল ম্যাগাজিনেও লিখতাম। রাজনীতি যখন বাংলাকে ভাগ করেছিল, কবিতা তৈরি করেছিল সেতু। আটের দশকের শেষ দিকে কলকাতা আসা শুরু করলাম। নয়ের দশক থেকে এখানে আমার বই প্রকাশিত হয়। বাংলাকে কখনও এপার ওপার বলে অনুভব করিনি। কাঁটাতার ভূখণ্ড ভাগ করতে পারে, ভাষাকে ভাগ করতে পারে না। নির্বাসনের পথে দেশ খুঁজতে খুঁজতে একদশক পর কলকাতায় একটি ঘর পেয়েছিলাম। এখানে আমি সুখে, স্বস্তিতে ছিলাম, সৃষ্টিশীল ছিলাম। আমার বই ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিষিদ্ধ হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে দেয়। তবু ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। আমি কোনও অপরাধ করিনি।
কোনও আদালত আমাকে নির্বাসনের সাজা দেয়নি। তবু মৌলবাদীদের হুমকির মূল্য দিতে হল আমাকে। আমার ঘর, শহর, পাঠক, স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে…আমার দেশেও আমি অপরাধ করিনি। আমার দেশ বাংলাদেশ আমাকে শাস্তি দিয়েছিল। ৩২ বছর আগে নির্বাসন দিয়েছিল আমাকে। কী দোষ ছিল আমার? কাউকে হত্যা করেছিলাম, কারও ঘর পুড়িয়েছিলাম? আমি ডাক্তারি করেছি আর আমার গল্প-কবিতা-প্রবন্ধে কিছু সহজ কথা লিখেছি। নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা লিখেছি, লিখেছি ধর্ম-বর্ণ-জাত বা লিঙ্গ পরিচয় নির্বিশেষে সমান মানবাধিকারের কথা। বলেছি, কোনও বিধান, তার উৎস ধর্ম, সমাজ, পরিবার বা রাষ্ট্র যাই হোক, মানুষের স্বাধীনতা, সমতা এবং মর্যাদা কেড়ে নিলে সেই বিধান বদলাতে হবে। সেই কথাগুলিকেই অপরাধ বলা হল। আমাকে হত্যার জন্য মিছিল বেরোল দেশে। ফতোয়া জারি করে মাথার মূল্য জারি হল। রাষ্ট্র আমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বদলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল। শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বের করে দিল আমাকে।”
তসলিমা বলেন, “আমার নির্বাসন নিছক ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা নয়। রাষ্ট্রপের নৈতিক ব্যর্থের ইতিহাস সেটি। রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার রক্ষার বদলে ধর্মীয় হুমকির কাছে যখন নতি স্বীকার করে, শুধু লেখক নন, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, রাষ্ট্রের নৈতিক সাহসও নির্বাসিত হয়। আমাকে সরিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র শান্তি প্রতিষ্ঠা করেনি। নিরস্ত্র লেখকের অধিকার বিসর্জন দিয়ে সাময়িক নীরবতা কিনেছিল।
একজন লেখককে সরিয়ে দিলে একদিনের জন্য হয়ত রাস্তা শান্ত হয়, কিন্তু রাষ্ট্র দুর্বল হয়। শক্তিশালী হয় হুমকিদাতা। শিখে যায়, আরও জোরে হুমকি দিলে রাষ্ট্র নত হবে। ভয়ের কাছে আপস শান্তি আনে না, পরবর্তী হুমকির ভিত্তি তৈরি করে। একটি সভ্য সমাজে যুক্তির উত্তর আর একটি যুক্তি। একটি বইয়ের উত্তর আর একটি বই। কোনও মত অপছন্দ হলে প্রতিবাদ করুন, খণ্ডন করুন, পাল্টা লিখুন। কিন্তু লেখককে হত্যা করতে যাবেন না। কারাগারে নিক্ষেপ করবেন না। তার দেশ,ভাষা, পাঠক, ঘর থেকে নির্বাসিত করবেন না। যে স্বাধীনতা শুধুমাত্র নিজের পছন্দের কথার জন্য, তা বাক স্বীধানতা নয়। একটি সমাজের সভ্যতা বোঝা যায়, তার অপ্রিয় ও অজনপ্রিয় মত কতটা মত, তা দিয়ে। মতভিন্নতা সভ্যতার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতের উত্তরে হত্যার হুমকি সভ্যতার পরাজয়। আমি কোনও মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করি না। আমি লড়াই করি অশুভ মতাদর্শের বিরুদ্ধে। সেই সব মতাদর্শের বিরুদ্ধে যা নারীকে পুরুষের অধীন করে, শিশুকে যুক্তির বদলে অন্ধ আনুগত্য শেখায়, ধর্ম এবং ঈশ্বরে অবিশ্বাসকে অপরাধ বলে, ভিন্নমত বা ভিন্নমতের মানুষকে ঘৃণা করতে বা হত্যা করতে শেখায়।
আমি সব ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধী। ইসলামি মৌলবাদের বিরুদ্ধে বেশি সরব কারণ শৈশব থেকেই কাছ থেকে দেখেছি। ইসলামি আইনে নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য দেখেছি, অমুসলিম, নাস্তিক এবং মুক্ত চিন্তকদের উপর নিপীড়ণ দেখেছি, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, চিন্তা এবং স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করতে দেখেছি, বিশ্ব জুড়ে জিহাদি-উগ্রপন্থীদের সন্ত্রাস এবং হত্যাকাণ্ড দেখেছি। তাই এর নাম স্পষ্ট করে বলি। আমি সব ধর্মের মৌলবাদকে এক সারিতে রাখি না। অন্যান্য ধর্মের মৌলবাদের কথা বলে ইসলামি মৌলবাদকে আড়াল করি না। যে অন্যায় যেখানে ঘটবে, যে মতাদর্শ তার জন্য দায়ী, নাম ধরে সমালোচনা করি। সত্যকে ভারসাম্যের অস্পষ্ট করা নিরপেক্ষতা নয়। বরং তা সত্যের সঙ্গে আপস। ইসলামের সমালোচনা মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ নয়। মানুষের অধিকার আছে, মতাদর্শের নেই। মানুষকে রক্ষা করতে হবে, মতাদর্শকে প্রশ্ন করতে হবে। মুসলিমের শুভাকাঙ্খী হওয়া মানে তাদের ধর্মীয় শাসনের বন্দিত্বে রেখে দেওয়া নয়। আমি চাই মুসলিম সমাজে মুসলিম সমাজে মুক্ত চিন্তার চর্চা বাড়ুক, যুক্তিবাদী এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের সংখ্যা বাড়ুক, নারীরা পূর্ণ সমানাধিকার পাক, কারও মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হোক। কোনও মতাদর্শই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়।
ইসলামের সমালোচনা করা, ইসলাম সম্পর্কে সত্য কথা বলা মুসলিম বিদ্বেষ নয়। বরং মুসলিম সমাজের সংস্কার, বিবর্তন এবং মানুষের মুক্তির জন্য সমালোচনা অত্যন্ত জরুরি। আজ বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক সমাজে খ্রিষ্টধর্ম, হিন্দুধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম, কোনও ধর্মই নীতিগত ভাবে সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। ধর্ম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করেই এই সব সমাজ বহু পুরনো বৈষম্য এবং কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসেছে।।”
