ঢাকা: নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতি, মানুষের দুর্দশা দেখে চোখে পানি আসছে বিশ্বের।
মৃতের সংখ্যা তো বেড়েই চলেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, মৃত্যু হয়েছে ৩৫৯ জনের, নিখোঁজ দেড় হাজারের কাছাকাছি। আরো বেশিও হতে পারে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন সহ ৩০০-র বেশি ভারতীয়।
নেই বিদ্যুৎ, অভাব দেখা দিয়েছে পানীয় জলের। কাদার নীচে ডুবে আছে জাতীয় সড়ক। নেপাল জুড়ে হাহাকার অবস্থা।
নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
দুর্যোগে কাঠমান্ডুর পাশে থাকার বার্তা দিয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালকে ফোন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেলিফোন আলাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এবং তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রাকৃতিক এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশী নাগরিকের হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফোনালাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের এই কঠিন পরিস্থিতিতে সে দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকবার্তা নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কাছে পৌঁছে দেন তিনি।
এছাড়া ভারত সার্বক্ষণিক নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ভয়াবহ বন্যার কঠিন সময়ে ভারত নেপালের পাশে আছে।
তিনি বলেন, ‘’প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী দেশকে সবরকম সাহায্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন।”
চৌহান বলেন, ভারত বরাবরই এই অঞ্চলের দেশগুলির বিপদে সবার আগে এগিয়ে আসে।
তিনি বলেন, “যখনই কোথাও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, ভারতই প্রথম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ভারত দ্রুত সবরকম সাহায্য পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।”
উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্যের ওপর জোর দিয়ে চৌহান বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ হল নিখোঁজ ভাই-বোনদের খুঁজে বের করা এবং নেপালের দুর্গত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো। ভারত এর জন্য চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখবে না।”
