ব্রাহ্মণবাড়িয়া: মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে নির্মিত মৈত্রীস্তম্ভের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন। এবং এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগ স্মরণীয় করে রাখার জন্য ২০১৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৭২ কোটি টাকায় ‘মৈত্রীস্তম্ভ’ নির্মাণ হয়। স্মৃতিস্তম্ভ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে।
দেয়ালজুড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা দৃশ্য রয়েছে।
দেয়ালের একাংশে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ–ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের খোদাই করা চিত্র, কোথাও যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে শিশু-নারী-পুরুষের মাথায় সহায়সম্বল তুলে ভারতে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যাওয়ার করুণ দৃশ্য।
আবার কোথাও আছে বৃদ্ধ মাকে কাঁধে তুলে নেওয়ার চিত্র। মায়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান যারা অস্বীকার করে, তারা রাজাকার, দেশদ্রোহী।
এসব চিত্রই খোদাই করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার কামাউরা এলাকায় নির্মিত ‘মৈত্রীস্তম্ভে’।

মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত এ স্মৃতিস্তম্ভ প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। অবশেষে উদ্বোধন হলো এবং জনগণের জন্য খুলে দেয়া হলো।
মৈত্রীস্তম্ভে প্রবেশের দুটি ফটক, ভেতরে ঢুকতই চোখে পড়ে পশ্চিম অংশে দেয়ালে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খোদাই করা চিত্র আছে।

সেখানে সিকান্দার আবু জাফরের কবিতা থেকে লেখা—‘আমার কাঁধেই নিলাম তুলে তোমার যত বোঝা, তুমি আমার বাতাস থেকে মুছো তোমার ধুলো, তুমি বাংলা ছাড়ো।’
পাশেই খোদাই করা লেখা—‘দৈনিক পাকিস্তান বাংলা এবারের মুক্তির সংগ্রাম জয় বাংলা’ ও ‘এ মৈত্রী চিরদিন অটুট থাকবে’।
মূল স্মৃতিস্তম্ভের নিচের চারপাশে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভারতীয় সেনাসদস্যদের নাম লেখা।
এদিন, উদ্বোধন শেষে জেলা প্রাশাসক মো. আবুসাঈদ মৈত্রীস্তম্ভটি ঘুরে দেখেন। এরপর এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
মৈত্রীস্তম্ভ পরিদর্শনে দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য যথাক্রমে ২০ ও ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যারা দেখতে যাবেন, ইতিহাস জানতে যাবেন- তাদের এই টাকা দিতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে ও আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ারসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
