ঢাকা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতা হারানো, আর দাঙ্গা লাগানোর লোভ মানুষের কতটা হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কথা বলতে পারেন!
জামাতের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা আছে, এগুলো তো শোনাই যায়, আর এই দেশের জামাত সরাসরি মমতার পক্ষ নেয়, এবং ভারত/ বিজেপির বিরোধিতা করে। তা সর্বজনবিদিত।
ওসমান হাদি, লাগাতার ভারত বিরোধী উস্কানিমূলক ভাষণ ও বাংলাদেশে ভারত বিরোধী নাশকতামূলক কার্যক্রমে ইন্ধন জুগিয়ে আসা এক মৌলবাদী নেতা।
হিন্দু বিরোধী, দেশে হিন্দু বাঙালি নিধনকারী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি।
ভারতের সেভেন সিস্টার্স ও চিকেনস নেক নিয়ে লাগাতার উস্কানি, বৃহত্তর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে ভারতের প্রান্তিক অঞ্চলের মুসলমানদের ভারত বিরোধী করার চেষ্টা করার মত একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত এই জঙ্গী হাদি।
আর এই হাদিকে নিয়ে পড়েছেন এখন মমতা।
আসলে তাঁর বাংলাদেশী ও ভারত বিরোধী বন্ধুরা যে পথে চালাচ্ছেন তিনি সেই পথেই চলছেন।
এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে। উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
গত ২ জুন রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন তিনি। এমনকি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন।
যা বলেছেন তাতে এই দেশের হিন্দুরা আতঙ্কিত, কারণ যে কোনো মুহূর্তে তাদের জীবন শঙ্কায় পড়তে পারে। দাঙ্গা লাগাতেই চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর তারপরই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আইনজীবী রিঙ্কি সেন চ্যাটার্জি তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের এক হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দুই দেশের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগেই, অর্থাৎ গত মাসের শেষেও এই আইনজীবী শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতা ব্যানার্জি বিরুদ্ধে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
রিঙ্কি বলেন, “উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, সেটা এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করলেন। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করলেন। বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেন। পদে আসার সময় শপথ নিয়েছিলেন যে উনি কোনওদিন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। যেই না পদ চলে গেছে অমনি উনি মৌলবাদীদের উস্কে দিলেন।”
মমতা কী মন্তব্য করেছিলেন?
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে STF গ্রেফতার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে বড় বিক্ষোভ হয়েছিল। অন্যদেশের কথা বলছি না, আমি যে পয়েন্ট বলছি ওরা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় আসে। এখানে আসার পর আমাদের STF ধরে। হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন…এতদিন বলিনি আজ অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে বললাম। উনি বললেন…আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য। কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল…আমি সব জানি। আমার হৃদয় সত্য ভান্ডার।”
মূলত ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টাই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
