ঢাকা: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ এবং আকস্মিক বন্যার পর দেশটির ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এত খারাপ অবস্থা হয়েছে দেশের। তাঁদের উদ্ধার করার জন্য কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে টানেলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের ভোটেকোশি নদীতে বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে। বন্যার পানি নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী এলাকার কৃষি বিকাশ ব্যাঙ্ক শাখায় ঢুকে পুরো ব্যাঙ্ক চত্বর ডুবিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে, ব্যাঙ্কের ভেতরে আটকে পড়া কোটি কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু হয়। জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্কটি থেকে প্রায় ৫০ কোটি নেপালি রুপি মূল্যের সোনা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ৯৩৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যাটা আরো বেশিও হতে পারে।
নেপালে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৯১৯। এখনো ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকার্য চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ টানেলের ভেতরে জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বড় ধরনের অনেকটাই চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
কোথায় যে গেছে মানুষগুলো, কতজনের হদিস পাওয়া যাবে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই।
রোববার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রুস্বানার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল তার দল।
টানেলের ভেতরে কাদার গভীরতা পরিমাপ করতে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা ব্যবহার করেন। পরে সেগুলো দিয়েই অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়।
শুক্রবার থেকে খারাপ আবহাওয়া ও নতুন বন্যার আশঙ্কায় কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। নেপাল-চীন সীমান্তে দুর্যোগের কারণে তৈরি একটি হ্রদ উপচে পড়ায় নতুন করে নদীগুলোতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সোমবার আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় উদ্ধারকাজ আবার গতি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার।
