ঢাকা: লিঙ্গসমতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি, এবং মৌলবাদের বিরুদ্ধে, নারী অধিকার নিয়ে স্পষ্ট লেখার কারণে তসলিমা নাসরিনকে তাঁর নিজের দেশ বাংলাদেশ থেকে এবং পরবর্তীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকেও নির্বাসিত হতে হয়।
তবে সরকার বদলেছে, কোনো বাংলাতেই প্রবেশের দুয়ার খোলেনি তাঁর। দেশে খালেদা জিয়ার আমলে তো গেলোনা, শেখ হাসিনার আমলে গেলো, ইউনূসের আমলে গেলো, এখন খালেদা পুত্র তারেক রহমানের আমল!
বারবার আশা রেখেছেন তিনি মাতৃভূমিতে ফিরতে পারবেন, কিন্তু পারেননি। অদূর ভবিষ্যতে কোনোদিন পারবেন কিনা তা এক উপরওয়ালা জানেন।
তবে এবার কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তিনি ফিরছেন। যে কলকাতার জন্য তাঁর প্রাণ আসে যায়, সেই কলকাতায় তিনি ফিরছেন অবশেষে।
বাম আমলে পার হলো, তৃণমূল গেলো, এবার ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। শুভেন্দু অধিকারী নতুন মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন সেখানে। অবশেষে তসলিমার ফেরার রাস্তা থেকে কাঁটা মুক্ত হলো।
১৯৯৪ সালে মৌলবাদীদের তীব্র রোষানল ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের পটভূমিতে তিনি ‘লজ্জা’ উপন্যাসটি লেখেন।
এটি প্রকাশের পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং মৌলবাদীরা তার উপর চড়াও হয়।
তবে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর, ভারতে আশ্রয় নিয়েও শান্তি পাননি।
২০০৭ সালে কলকাতায় মৌলবাদী গোষ্ঠী তাঁর উপস্থিতির প্রতিবাদে চরম সহিংস আন্দোলন গড়ে তোলে।
সেই সময় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে যেতে বাধ্য করে। রাতারাতি তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়।
সেই সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল।
দীর্ঘ দু’দশক পর তিন দিনের সফরে কলকাতায় যাচ্ছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন।
তাঁর সফরসূচি সম্পর্কে জানুন:
৩১ জুলাই রাতে তিনি কলকাতায় পৌঁছবেন। ১ অগাস্ট রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।
২ অগাস্ট অনুষ্ঠিত হবে সাংবাদিক সম্মেলন। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক হচ্ছে সেক্যুলার মিশন ও এইচআরবিএফএফ।
আয়োজকদের পোস্টে তসলিমা নাসরিনকে ‘মৌলবাদ বিরোধী প্রতিবাদের অগ্নিসম প্রতীক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলকাতার সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্কটি বরাবরই আবেগঘন।
এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, “কলকাতা ছাড়া আমার আর কোনও ঘর নেই।” অথচ এই শহরেই তাঁর জন্য ছিল এক ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’। এবার কাটলো শনির দশা।
