ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গে সদ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এবং সেখানে বাম্পার বিজয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

তবে এর মধ্যেই অত্যন্ত মর্মান্তিক একটি খবর সামনে এলো। যা হৃদকম্পন বাড়ায়। হত্যা করা হয়েছে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে। যার সাথে শুভেন্দু অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো।

এই হত্যাকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশকে একদম থমথমে করে দিয়েছে।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু রং ভোটের আশপাশেও দাঁড়াতে পারেননি। ঘরের মেয়ে ঘরেই হেরেছেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান ১৫,১১৪ ভোটে।

এবারের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই নজরে ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভবানীপুরের পাশাপাশি, নন্দীগ্রামেও ৯০০০ – এর বেশি ভোটে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পরাজিত তৃণমূলের পবিত্র কর।

চন্দ্রনাথের হত্যাকাণ্ডে অনেকেই তৃণমূলের পরাজয়কে কারণ হিসেবে দেখছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকেই হয়তো রথকে খুন করা হয়েছে। ভবানীপুরে বিজয়ের কথা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর সবচেয়ে ভরসার মানুষ! সেই মানুষটিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন সহযোগী ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। গত আট বছর ধরে তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনা শেষ করে ভারতীয় বায়ুসেনায় যোগ দেন।

সোমবার, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়। বিপুল আসনে জয়ী হয় ক্ষমতায় আসে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তারপর থেকেই গেরুয়া শিবির জয় উদযাপনে ব্যস্ত। ঠিক সেই সময়ই ঘটনাটা ঘটানো হয়।

অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা একটি গাড়িতে এসে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএ) প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে  কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চন্দ্রনাথ মারা যান, আর তাঁর চালক বুদ্ধদেব বেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

প্রাথমিক ময়নাতদন্ত রিপোর্ট অনুসারে, চন্দ্রনাথ রথকে খুব কাছ থেকে বুকে একাধিকবার গুলি করা হয়েছিল, যা তাঁর হৃৎপিণ্ড ভেদ করে যায়।

এই গুরুতর আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায় , এতে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে, আধিকারিকরা স্পষ্ট করেছেন, এগুলো শুধু প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য এবং একটি বিস্তারিত রিপোর্ট এখনও বাকি।

পুলিশ বলছে, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলাটি চালিয়েছে। প্রথমে অন্য একটি গাড়ি চন্দ্রনাথ রথের গাড়িটিকে থামিয়ে দেয়। এরপর হামলাকারীরা একটি বাইকে করে গাড়িটির কাছে এসে খুব কাছ থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। হামলার পর অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি গুলির খালি খোল উদ্ধার করেছে।

ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং সিআইডিও তদন্তে যোগ দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা সম্ভবত অত্যাধুনিক গ্লক ৪৭এক্স পিস্তল ব্যবহার করেছিল। সাধারণ অপরাধীদের কাছে সচরাচর এ ধরনের অস্ত্র থাকে না।

এছাড়াও অভিযুক্তদের ব্যবহৃত গাড়িটির লাইসেন্স প্লেটটি ছিল নকল। গাড়িটির চেসিস এবং ইঞ্জিন নম্বরও মুছে ফেলা হয়েছিল, যা থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘‘আমার ব্যক্তিগত লস। আমি যদি বিজেপি না করতাম, আমি যদি বিরোধী দলনেতা না হতাম, আমি যদি ভবানীপুরে না জিততাম, ওর সঙ্গে এটা হত না।’’ কথার ইঙ্গিত অবশ্যই তৃণমূলের দিকেই যাচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *